ধামইরহাটে কৃষক হত্যা, ওসি মিন্টুর নেতৃত্বে ৫ ঘণ্টায় ৭ গ্রেপ্তার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ধামইরহাটে কৃষক হত্যা, ওসি মিন্টুর নেতৃত্বে ৫ ঘণ্টায় ৭ গ্রেপ্তার..

মো. রিফাতুল হাসান চৌধুরী (সৈকত) avatar   
মো. রিফাতুল হাসান চৌধুরী (সৈকত)
ধামইরহাটে কৃষক হত্যা, ওসি মিন্টুর নেতৃত্বে ৫ ঘণ্টায় ৭ গ্রেপ্তার..
ধামইরহাটে কৃষক হত্যা, ওসি মিন্টুর নেতৃত্বে ৫ ঘণ্টায় ৭ গ্রেপ্তার..
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর ধামইরহাটে ছাগল জমির করলা গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল কাশেম (৪২) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন।..

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর হত্যা মামলা দায়েরের মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় সাত আসামিকে গ্রেফতার করেছে ধামইরহাট থানা পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কাশেম ওই এলাকার মৃত রাজ মাহমুদ মণ্ডলের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে একই গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে রাকিবুল ইসলাম রনির জমির করলা খেতে একটি ছাগল প্রবেশ করে করলা গাছ খায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রনির সঙ্গে আবুল কাশেমের পরিবারের সদস্যদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ধারালো চাকুর আঘাতে আবুল কাশেমসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেমের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে নিহতের বড় ভাই মুক্তার আলী, ভাইয়ের স্ত্রী রেখা বেগম, বড় ভাই বদিউল ইসলাম ও ছোট ভাই ইমরান আলী জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের স্ত্রীও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আবু সাঈদ হোসেন বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নামে ধামইরহাট থানা পুলিশ। নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। পুলিশের একটি দল পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান পরিচালনা করে। ধারাবাহিক অভিযানের একপর্যায়ে মামলা রুজুর মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই এজাহারনামীয় সাত আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, ১. মো. রাকিবুল ইসলাম রনি (২৮), পিতা—মো. আব্দুল হাকিম ২. মো. আব্দুল হাকিম (৬০), পিতা—মৃত আব্দুল গফুর ৩. মো. কফিল উদ্দিন (৬৫), পিতা—মৃত আব্দুল গফুর ৪. মোছা. আকলিমা বেগম (৩৫), স্বামী—মো. ফেরদৌস হোসেন ৫. মোছা. হামিদা বেগম (৩৮), পিতা—মৃত ইসমাইল হোসেন ৬. মোছা. ফরিদা বেগম (৫০), স্বামী—মো. আব্দুল হাকিম ৭. মোছা. জিয়াসমিন বেগম (২১), স্বামী—মো. রাকিবুল ইসলাম রনি। গ্রেফতারকৃত সবাই ধামইরহাট উপজেলার ৬ নম্বর জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও আসামিদের সাথে অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকুও উদ্ধার করা হয়।

এবিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করে। মামলা রুজুর পর আসামিদের গ্রেফতারে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত কেউ যাতে আইনের বাইরে থাকতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। এবং ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator