তিনবার বিয়ে ভেঙে যাও,  সুূচিত্রার ধুমধামে বিয়ে দিলেন মামুন বিশ্বাস.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তিনবার বিয়ে ভেঙে যাও,  সুূচিত্রার ধুমধামে বিয়ে দিলেন মামুন বিশ্বাস..

মো. ইয়াছিন কবির avatar   
মো. ইয়াছিন কবির
তিনবার বিয়ে ভেঙে যাও,  সুূচিত্রার ধুমধামে বিয়ে দিলেন মামুন বিশ্বাস..
তিনবার বিয়ে ভেঙে যাও,  সুূচিত্রার ধুমধামে বিয়ে দিলেন মামুন বিশ্বাস..
ছবি: সংগৃহীত
****

 ইয়াছিন কবির, কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ):

অর্থের অভাবে তিনবার বিয়ে ভেঙে যায় সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের সূচিত্রা রানী দাসের ধুমধামে  বিয়ে দিলেন মানবতার ফেরিওয়ালা মামুন বিশ্বাস। 

উপজেলার জামতৈল সূত্রধরপাড়ার সুজন চন্দ্র দাস ও কামনা রানী দাস দম্পতির মেয়ে সূচিত্রা রানী দাস। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
 বাবা সেলুনে কাজ করেন। মা আগে চালকলে কাজ করলেও অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না। দুই সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবারে যেখানে দুই বেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন। 
সূচিত্রার টাকার অভাবে তিনবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে নজরে আসে মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকা মামুন বিশ্বাসের। পরে তিনি সূচিত্রার বিষয়টি তুলে ধরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন। সেই পোস্ট দেখে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ মামুন বিশ্বাসের অ্যাকাউন্টে অর্থ সহায়তা পাঠাতে থাকেন। এতেই ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়।
শুক্রবার সেই অর্থের সহায়তায় ধুমধাম করে সূচিত্রার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। একই জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামের ঝড়ু লাল চন্দ্র ভৌমিক ও মমতা রানী ভৌমিক দম্পতির ছেলে পলাশ কুমার ভৌমিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

সূচিত্রার মা কামনা রানী দাস বলেন, ‘আমি একসময় চালকলে কাজ করতাম। অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করতে পারি না। সূচিত্রার বাবা সেলুনে কাজ করেন, তারও আগের মতো কাজ নেই। তিনি যে টাকা আয় করেন, তা দিয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে আমাদের খুব কষ্টে চলতে হয়। ঘরবাড়ির অবস্থাও ভালো নয়। টাকার অভাবে সূচিত্রার তিনবার বিয়ে ভেঙে যায়। এবারও মামুন বিশ্বাস ভাই আমাদের পাশে না দাঁড়ালে  বিয়ে ভেঙে যেত।’

সূচিত্রা রানী দাস বলেন, ‘এর আগে তিনবার বিয়ে ঠিক হলেও টাকার অভাবে বিয়ে হয়নি। এবারও বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে আমি ও আমার মা-বাবা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু মামুন বিশ্বাস মামা এসে আমাদের পাশে দাঁড়ান। কোনো দিন ভাবিনি আমার মতো অসহায় মেয়ের এত বড় আয়োজন করে বিয়ে হবে। তার প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’

মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘সূচিত্রার বিষয়টি জানতে পেরে ফেসবুকে পোস্ট দিই। দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষের সহযোগিতায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়। সেই অর্থে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার পর ২৩ হাজার টাকা সূচিত্রার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই কৃতিত্ব আমার নয়; দেশ-বিদেশ থেকে যারা সহযোগিতা করেছেন, কৃতিত্ব তাদের। আমি শুধু চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

মামুন বিশ্বাস আরও জানান, সূচিত্রার বিয়ের মতো ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক অসহায় মেয়ের বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের সবাই সুখে-শান্তিতে সংসার করছেন।

Комментариев нет


News Card Generator