চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর প্রচারণার পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মান মুন্সি ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন যে, তাদের চাচাতো ভাই ইসমাইল ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মূলত পৈত্রিক সম্পত্তির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হলেও বর্তমানে এটি ব্যক্তিগত আক্রোশ ও আইনি হয়রানিতে রূপ নিয়েছে। ভুক্তভোগী সোলায়মান মুন্সি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালে বাড়ি নির্মাণের সময়ও প্রতিপক্ষরা দফায় দফায় বাধা প্রদান করেছে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদের হয়রানি করা হয়েছে, যা কেবল সম্পত্তি দখলের কৌশল নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত দমন-পীড়নের অংশ বলে ভুক্তভোগী পরিবার মনে করছে। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করে তারা এই হয়রানির অবসান চেয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার। সোলায়মান মুন্সির চাচা আজিজুল হক সংবাদ সম্মেলনে বর্ণনা করেন যে, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়কে পুঁজি করে তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে। বিশেষ করে তৎকালীন বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফির নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয় যে, তার প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় তাদের বাড়িঘর নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং পরিষদে ডেকে নিয়ে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। আজিজুল হকের ভাষ্যমতে, সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে এখন নতুন করে অপপ্রচারের মাধ্যমে তাদের পরিবারের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মিথ্যা মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্টের কারণে তারা সাধারণ মানুষের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছেন, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সম্পত্তির বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের পেশিশক্তির কাছে তারা অসহায় বোধ করছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরনের অন্যায় আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। সোলায়মান মুন্সি ও আজিজুল হক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তারা কোনো ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা সংঘাত চান না, বরং আইনের শাসন ও নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পত্তির সঠিক বণ্টন চান। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাঙ্গুনিয়া থানা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয় এবং যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যদি অবিলম্বে এই অপপ্রচার বন্ধ না হয় এবং সম্পত্তির বিরোধ নিরসনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে তারা আরও বৃহত্তর আইনি লড়াইয়ে যেতে বাধ্য হবেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শাহজাহান, পারভীন আক্তার, শামিমা আক্তার ও রোজি আক্তারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
পারিবারিক বিরোধের এই দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিবারের ওপরই প্রভাব ফেলছে না, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ প্রবণতাকেও উসকে দিচ্ছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ মিমাংসায় স্থানীয় সালিশি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভাব থাকায় সাধারণ মানুষ প্রায়ই এই ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে এলাকার জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোলায়মান মুন্সির পরিবারের এই আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। যদি এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানির বিরুদ্ধে সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ আরও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে। তাই প্রকৃত সত্য উন্মোচনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধের অবসান ঘটাবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে।