সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে বুধবার এক উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনের কার্যক্রমকে নতুন করে বেগবান করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সুধীজনদের ব্যাপক অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে পুরো আয়োজনের মূল সুর হিসেবে কাজ করেছে। ক্লাবের সভাপতি মোঃ ছানু মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হারিছ আলীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং স্থানীয় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি লিয়াকত আলী খানসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে আয়োজনের মূল পর্বের সূচনা হয়, যা স্থানীয় সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে।
অভিষেক অনুষ্ঠানে আগত বক্তারা সাংবাদিকতার বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। বিশেষ করে প্রধান অতিথি ডিবি নিউজের প্রধান উপদেষ্টা লিয়াকত আলী খান তার বক্তব্যে পেশার মর্যাদা রক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, সাংবাদিকতা কোনো সাধারণ চাকরি নয়, বরং এটি একটি মহান ও দায়িত্বশীল মিশন। যারা এই পবিত্র পেশাকে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে কলুষিত করবে, সমাজ ও ইতিহাস তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না। অনুষ্ঠানের সংবর্ধিত অতিথি এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিতে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লেখনীর মাধ্যমে লড়াই করাই একজন সাংবাদিকের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, যেখানে ভয় বা প্রলোভন কোনোভাবেই অন্তরায় হতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ অতিথি এস সুটন সিংহসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা সংগঠনের উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সাথে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। সভায় ক্লাবের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও উপদেষ্টামণ্ডলী সাংবাদিকতার মানদণ্ড বজায় রাখতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। এছাড়া, গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাকারিয়া তালুকদারসহ অন্যান্য বক্তারা সংগঠনের দীর্ঘ দুই দশকের পথচলার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষাংশে অতিথিদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়, যা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংহতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই ধরনের আয়োজন স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পেশাদার নেটওয়ার্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত সবাই।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের প্রভাব কেবল এই দিনের আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। দক্ষ ও মেধাবী সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন কমিটি আগামী দিনে গোলাপগঞ্জের জনদুর্ভোগ, উন্নয়ন ও সামাজিক অসংগতিগুলো তুলে ধরতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা এখন দেখার বিষয়। সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের এই সম্মিলিত অঙ্গীকার যদি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা স্থানীয় জনজীবনের মানোন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।