মোংলায় বিশ্ব নদী দিবস: দখল ও দূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মোংলায় বিশ্ব নদী দিবস: দখল ও দূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবি..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
মোংলায় বিশ্ব নদী দিবস: দখল ও দূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবি..
মোংলায় বিশ্ব নদী দিবস: দখল ও দূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবি..
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের মোংলায় বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে নদী ও জেলেজীবন সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি পরিহার এবং দখল-দূষণ বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।..

বাগেরহাটের মোংলায় রোববার বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এক ব্যতিক্রমী ও জোরালো প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, উত্তরণ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নারিকেলতলা নদীপাড়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নদী দখল ও দূষণ বন্ধের দাবি তোলা হয়। দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ‘বন বাঁচলে নদী বাঁচবে, নদী বাঁচলে পানি বাঁচবে, পানি বাঁচলে জীবন বাঁচবে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সকালে স্থানীয় শিশুরা নদীতে ফুল ছিটিয়ে ও রঙিন কাগজের নৌকা ভাসিয়ে নদীর প্রতি তাদের ভালোবাসা ও সুরক্ষা বার্তা পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে জেলেজীবন সুরক্ষার দাবিতে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়, যেখানে নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আলোচনা সভা ও মানববন্ধনে বক্তারা নদী ও জেলেদের অস্তিত্বের সংকটের মূল কারণ হিসেবে শিল্পায়ন ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নেতিবাচক প্রভাবকে চিহ্নিত করেছেন। পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ অভিযোগ করেন যে, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত ছাই, গরম পানি এবং কয়লা পরিবহনজনিত দূষণ পশুর নদীসহ সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীর জলজ জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। জেলে সমিতির নেতা আব্দুর রশিদ ও বিদ্যুৎ মণ্ডল বলেন, শিল্পবর্জ্য ও কয়লা দূষণের কারণে নদ-নদীতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে, যা হাজার হাজার জেলের জীবন-জীবিকাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। তারা অভিযোগ করেন, নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে আদালতের স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে দখলদার ও দূষণকারীদের দাপটে নদীগুলো মরে যাচ্ছে, যার ফলে প্রান্তিক জেলেদের বিকল্প আয়ের কোনো পথ খোলা থাকছে না।

সংশ্লিষ্ট পরিবেশবাদী ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। উত্তরণের অ্যাডভোকেসি অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, নদী বাঁচাতে হলে শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধের পাশাপাশি জেলেদের জন্য টেকসই বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশকর্মী রাফিয়া জাহান মিশু নদীপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সাথে নদী রক্ষার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এদিকে, প্রশাসনের কাছে পেশ করা স্মারকলিপিতে নদী ও খাল রক্ষায় কঠোর নজরদারি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের দাবি জানানো হয়েছে। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নদী সুরক্ষা কেবল একটি দিবসকেন্দ্রিক ইশতেহার নয়, বরং এটি সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

মোংলার এই কর্মসূচি কেবল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ে নদী ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। নদী ও জেলেজীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে উপকূলীয় অঞ্চলে চরম পরিবেশগত বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীকেন্দ্রিক এই আন্দোলন ও দাবিগুলো যদি সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছায় এবং যথাযথ নজরদারি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তবেই সুন্দরবন ও এর সংলগ্ন নদীগুলোর প্রাণসঞ্চার সম্ভব হবে। অন্যথায়, দখল ও দূষণের আগ্রাসনে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator