চাঁদপুরের ষাটনল লঞ্চঘাটে নিখোঁজের ২৬ ঘণ্টা পর গার্মেন্টস কর্মীর মরদেহ উদ্ধার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরের ষাটনল লঞ্চঘাটে নিখোঁজের ২৬ ঘণ্টা পর গার্মেন্টস কর্মীর মরদেহ উদ্ধার..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরের ষাটনল লঞ্চঘাটে নিখোঁজের ২৬ ঘণ্টা পর গার্মেন্টস কর্মীর মরদেহ উদ্ধার..
চাঁদপুরের ষাটনল লঞ্চঘাটে নিখোঁজের ২৬ ঘণ্টা পর গার্মেন্টস কর্মীর মরদেহ উদ্ধার..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটে লঞ্চ থেকে নামতে গিয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ গার্মেন্টস কর্মী মো. রবিনের মরদেহ ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল।..

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটে মুকবিল-২ লঞ্চ থেকে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া মো. রবিন (৩৬) নামক এক গার্মেন্টস কর্মীর মরদেহ ঘটনার ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চটি জেটিতে নোঙর করার মুহূর্তে পা পিছলে তিনি নদীতে তলিয়ে যান। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শনিবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা ডুবুরি দলের সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থল জেটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা রবিন নারায়ণগঞ্জে কর্মরত ছিলেন এবং ঘটনার দিন শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চে ভ্রমণ করছিলেন। আকস্মিক এই মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার পরিবারের সদস্যরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করেছেন। পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের জনক রবিনের মৃত্যুর ঘটনাটি লঞ্চঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ত্রুটির দিকেই আঙুল তুলছে।

নিহত রবিনের স্ত্রী নাসরিন বেগম ঘটনার পর থেকেই লঞ্চঘাটে আহাজারি করছিলেন এবং দীর্ঘ সময় স্বামী উদ্ধার না হওয়ায় চরম হতাশা প্রকাশ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, লঞ্চঘাটের জেটিগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকা এবং লঞ্চ নোঙর করার সময় জেটিতে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি নিয়ন্ত্রণ করার মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিল না। রবিন প্রায় দুই মাস আগে চাকরি হারানোয় চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন এবং পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য তিনি শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, জেটিতে নামার সময় যদি লঞ্চের স্টাফরা যাত্রীদের সতর্ক করত বা জেটি এলাকাটি নিরাপদ হতো, তবে হয়তো এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো। ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা ঘটনার সময় লঞ্চ স্টাফদের গাফিলতি ও জেটির অব্যবস্থাপনাকে এই অকাল মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী করছেন।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলেও, পুলিশ ইতোমধ্যে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কী অভিযোগে বা কার গাফিলতির দায়ে তাদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেনি। লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক দুঃখপ্রকাশ বা দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে আসেনি। স্থানীয়রা বলছেন, ষাটনল লঞ্চঘাটে নিয়মিত যাত্রী পারাপার হলেও সেখানে উদ্ধার সরঞ্জাম বা জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলতে কিছুই নেই, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শনাক্তকরণ এবং জেটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের দাবি জোরালো হচ্ছে।

লঞ্চঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার এই ব্যর্থতা পরিবহন খাতের সামগ্রিক বিশৃঙ্খলারই বহিঃপ্রকাশ। একজন গার্মেন্টস কর্মীর এহেন মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ করেনি, বরং সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থার ঝুঁকিপূর্ণ দিকটিকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্তের নামে ঘটনাটি ধামাচাপা না দিয়ে যদি নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। উদ্ধার অভিযানের দীর্ঘসূত্রতা এবং নিখোঁজের পর তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারা প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে, যা ভবিষ্যতে নৌ-পথের যাত্রীদের মধ্যে আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত করবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator