সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি: বিয়ের আনন্দ বিষাদে রূপ, একই পরিবারের চার সদস্য ১৮ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি: বিয়ের আনন্দ বিষাদে রূপ, একই পরিবারের চার সদস্য ১৮ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ..

Mohammad Abdul Qaiyum Nahid avatar   
Mohammad Abdul Qaiyum Nahid
সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি: বিয়ের আনন্দ বিষাদে রূপ, একই পরিবারের চার সদস্য ১৮ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ..
সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি: বিয়ের আনন্দ বিষাদে রূপ, একই পরিবারের চার সদস্য ১৮ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ..
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং একই পরিবারের চারজন ১৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।..

আব্দুল কাইয়ুম নাহিদ ,সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ১৮ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়েও একই পরিবারের চারজনের সন্ধান মেলেনি। রাতভর অভিযান চালানোর পর আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে আবারও পুরোদমে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য আন্ডারওয়াটার ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
 
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
 
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নিতে কুমিল্লার হোমনা উপজেলা থেকে ১৪ জন যাত্রী একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে বিয়ের উপহার হিসেবে দুটি গরু ও একটি খাসি ছিল। মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়। এ সময় যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান।
 
এ ঘটনায় রায়েশা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
এখনো নিখোঁজ রয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্য — হেলাল উদ্দিন (৫৫), তার ছেলে সজীব (২৪), মেয়ে সামিয়া (১৭) এবং ছোট ছেলে সামিন (৫)। নিখোঁজরা সবাই রায়েশা বেগমের স্বজন।
 
স্থানীয়রা অন্য একটি ট্রলার নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের শিরিন বেগম (৪৫) ও তার মেয়ে লামিয়া আক্তার রয়েছেন। আহত কয়েকজনকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ৯ জনকে জীবিত উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
 
উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী বলেন, "বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পাওয়ার পর বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। আমরা রাত তিনটা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েছি। ডুবুরি ইউনিট দিয়ে সকাল সাতটা থেকে আবার পুরোদমে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য ক্যামেরা দিয়েও খোঁজা হচ্ছে। আমরা ও ডুবুরি দল সব দিক দিয়ে দেখছি। এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।"
 
তিনি আরও জানান, উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করছেন।
 
বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, "নৌকাটিতে ১৪ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের সঙ্গে দুটি গরু ও একটি খাসি ছিল। ঝড়ের কবলে পড়লে নৌযানটি ডুবে যায়।"
 
বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। নিখোঁজদের স্বজনরা নদীর পাড়ে ভিড় করে অপেক্ষা করছেন। ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি।
No se encontraron comentarios


News Card Generator