সাংবাদিকতার আড়ালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গোপন তৎপরতা: জগন্নাথ… | আই নিউজ বিডি

সাংবাদিকতার আড়ালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গোপন তৎপরতা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নবিদ্ধ রাশেদের ভূমিকা..

Mohammad mojnu sarkar avatar   
Mohammad mojnu sarkar
সাংবাদিকতার আড়ালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গোপন তৎপরতা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নবিদ্ধ রাশেদের ভূমিকা..
সাংবাদিকতার আড়ালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গোপন তৎপরতা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নবিদ্ধ রাশেদের ভূমিকা..
ছবি: সংগৃহীত
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার গোপন কর্মসূচিতে সহায়তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে ফেইস দ্যা পিপলের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাশেদুজ্জামান রাশেদের বিরুদ্ধে।..

সাংবাদিকতার পেশাদারিত্বের আড়ালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের অনুমোদিত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদধারী এক নেতা বর্তমানে পেশাদার গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়ে ক্যাম্পাসে সক্রিয় রয়েছেন, যা সাংবাদিকতার নীতি ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেইস দ্যা পিপলের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রাশেদুজ্জামান রাশেদ অতীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানেও সংগঠনটির বিভিন্ন গোপন ও নাশকতামূলক কার্যক্রমে নেপথ্য থেকে সহায়তা করে যাচ্ছেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি মো. ইব্রাহিম ফরাজি এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসেন স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক প্যাডে রাশেদুজ্জামান রাশেদের নাম ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিষয়ক উপকমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল সাধারণ কর্মী নন, বরং সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও শাখা পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর একটি সক্রিয় অংশ ছিলেন। অথচ বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে অবাধে চলাচল করছেন এবং তার পুরোনো রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে গোপনে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের মতো আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করে রাশেদ এবং তার সহযোগীরা ক্যাম্পাসে গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিকতার মতো একটি পবিত্র পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যারা ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসনে সহায়তা করছেন, তাদের এই দ্বিমুখী চরিত্র গণমাধ্যম জগতের জন্য একটি বড় হুমকি এবং এই ধরনের অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

ছাত্রলীগের পদধারী এই নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা মিলতেই ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে যারা ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, তারা রাশেদুজ্জামান রাশেদের এই অবস্থানকে সরাসরি প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন। ভুক্তভোগী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাশেদ সাংবাদিকতার কার্ড গলায় ঝুলিয়ে একদিকে যেমন প্রশাসনিক বিভিন্ন তথ্য পাচার করছেন, অন্যদিকে তেমনি নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণের মতো অরাজনৈতিক বা আঞ্চলিক সংগঠনের আড়ালে তিনি গোপনে সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই ধরনের গোপন তৎপরতা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতাকে পুঁজি করে যারা ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সাংবাদিকতার লেবাস পরে যারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সাথে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরনের অসাধু ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচন করা সময়ের দাবি।

এদিকে অভিযুক্ত রাশেদুজ্জামান রাশেদের এমন কর্মকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। পেশাদার সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতা সাংবাদিকতার পেশায় থেকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারেন না, যা স্পষ্টতই সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী। তবে অভিযুক্ত রাশেদ তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এবং কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ফেইস দ্যা পিপলের মতো একটি পরিচিত গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হয়ে এমন গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অপব্যবহার বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের উচিত এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া মাত্রই তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সাথে ক্যাম্পাসভিত্তিক সাংবাদিকতা ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা না হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের সুযোগসন্ধানীরা আরও বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর সাহস পাবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সাথে জড়িত প্রতিটি ছদ্মবেশী কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এই গোপন নেটওয়ার্ক এবং সাংবাদিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা রাশেদুজ্জামান রাশেদের মতো ব্যক্তিদের অপতৎপরতা বন্ধে প্রশাসনের উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ক্যাম্পাসকে পুনরায় অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে হবে, অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্তে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের চেতনা ভুলুণ্ঠিত হবে। গণমাধ্যম ও প্রশাসনের যৌথ নজরদারির মাধ্যমে এসব সুবিধাভোগী ও দ্বিমুখী চরিত্রের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এখন সময়ের জোরালো দাবি।

Комментариев нет


News Card Generator