শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নে চতুর্থ শ্রেণির ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের উদ্যোগ প্রতিরোধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর '২৬) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেলারাডাংঙা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই কিশোরী স্থানীয় একটি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে আশাশুনি উপজেলার ঘোলা-ত্রিমহনী গ্রামের সবুজ নামের এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের সঙ্গে তার বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টরা তাৎক্ষণিকভাবে কিশোরীর বাড়িতে উপস্থিত হন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তের নির্দেশনায় ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের আইনগত দিক ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা বাল্যবিবাহের উদ্যোগ থেকে সরে এসে বিয়ে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা সাকিবুর রহমান বাবলা বলেন, “গোপন তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে কিশোরীর বাড়িতে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক ও আইনগত পরিণতি সম্পর্কে বোঝানো হলে তারা বিষয়টি উপলব্ধি করেন এবং বিয়ের উদ্যোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ওসিসি প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিক, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সুপারভাইজার মো. আজিবুর রহমান, শিশু সুরক্ষাকর্মী মো. বাশিয়ার রহমান ও আফসানা আক্তার, ইউনিয়ন দফাদার বাসুদেব বিশ্বাস, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম এবং কো-অর্ডিনেটর সাবরিনা জেসমিন।
স্থানীয়ভাবে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিশু অধিকারকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।