যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। অধিবেশনে প্রধানত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ‘গণতান্ত্রিক নবযাত্রা’, বিশ্বশান্তি ও সমসাময়িক আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট কেন্দ্র করে বক্তব্য প্রদান করবেন তিনি।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য পুরোপুরি বাংলা ভাষায় উপস্থাপন করবেন।
জিয়া পরিবারের জাতিসংঘ-সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায়
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক এই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এর আগে তাঁর বাবা, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ প্রদান করেন। এর মাধ্যমে জিয়া পরিবারের দীর্ঘ কূটনৈতিক ও বৈশ্বিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সম্ভাব্য মূলভাব
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় তুলে ধরবেন:
-
বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
-
বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষা।
-
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন।
-
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির তাগিদ।
-
যুবসমাজ ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিস্তার।
-
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর অধিকার।
-
আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ও সমতামূলক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং বহুপাক্ষিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ৫ প্রস্তাব
এর আগে বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে ‘রোহিঙ্গা সংকট’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, মালয়েশিয়াসহ ৮টি দেশের প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেন।
উক্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জরুরি ৫টি পদক্ষেপের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, "এখন আর কেবল সহমর্মিতা দেখানোর সময় নয়, বরং সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের পথ খোঁজার সময় এসেছে। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতির স্থায়ী অবসান ঘটানোর দিকে এগোতে হবে।"
জাতিসংঘ সফরের প্রথম দিনেই ব্যাপক ব্যস্ততা
নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিন মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং জাতিসংঘ কেন্দ্রিক ১০টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগদান করেন। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি ৩টি দেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন।