মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নজিরবিহীন আঘাত: ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকোর মামলা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নজিরবিহীন আঘাত: ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকোর মামলা..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নজিরবিহীন আঘাত: ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকোর মামলা..
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নজিরবিহীন আঘাত: ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকোর মামলা..
ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহ ও সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে শীর্ষস্থানীয় তিন সংবাদমাধ..

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক হোয়াইট হাউস চত্বরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়ার ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে যৌথভাবে মামলা দায়ের করেছে প্রভাবশালী তিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএসএনবিসি এবং পলিটিকো। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘোষণার পরদিনই এই সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বা সংবাদ সংগ্রহের অনুমতিপত্র কেড়ে নেওয়া হয়, যা মূলত কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই কার্যকর করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তাদের সংবাদ পরিবেশন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার নীতিমালার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এই অসাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর মৌলিক অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে। এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার ফলে হোয়াইট হাউসের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ইভেন্টগুলোতে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সংবাদমাধ্যম ও বাক-স্বাধীনতা রক্ষার যে ঐতিহাসিক গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে, বর্তমান প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্তে তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত সংবাদমাধ্যমগুলো। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, সরকারের কাজের সমালোচনা বা প্রশাসনের পছন্দসই প্রতিবেদন প্রকাশ না করার ক্ষোভ থেকেই এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে যেভাবে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা প্রথা ও রীতিনীতি বদলে দিয়েছে, তাতে করে কেবল সিএনএন বা পলিটিকোই নয়, বরং গোটা সাংবাদিক সমাজ এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ও ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। প্রশাসনের এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র পরিচালনা বা নীতি নির্ধারণে সংবাদমাধ্যম কী ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করবে তা নির্ধারণ করার কোনো এখতিয়ার সরকারের নেই এবং এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতার অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

এই নজিরবিহীন মামলার বিপরীতে হোয়াইট হাউস প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জোরালো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করে তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর পরিবেশনের অভিযোগ এনেছেন এবং অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোকেও একই ধরনের পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ দেশের অন্যান্য গণমাধ্যম ও পেশাজীবী সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। অতীতেও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে সংবাদমাধ্যমের পাস বাতিলের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছিল ফেডারেল আদালত, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটেও আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হোয়াইট হাউস এবং শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর এই বিরোধ কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংঘাত নয়, বরং এটি মার্কিন রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোর ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে কোণঠাসা করার এই প্রবণতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জবাবদিহিতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে এবং জনগণের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সংকুচিত করছে। যদি এই ধরনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কঠোরভাবে প্রতিহত করা না যায়, তবে তা ভবিষ্যতে ক্ষমতার অপব্যবহারের পথ আরও প্রশস্ত করবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সার্বজনীন ধারণাকে চিরতরে বিপন্ন করে তুলবে। স্বাধীন সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরার এই অপচেষ্টা মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর সংকটের জন্ম দিয়েছে, যার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে দেশটির সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার লড়াই কতদূর এগোবে।

没有找到评论


News Card Generator