লাহোরে পিটিআইয়ের পরিকল্পিত মিছিলের প্রাক্কালে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

লাহোরে পিটিআইয়ের পরিকল্পিত মিছিলের প্রাক্কালে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
লাহোরে পিটিআইয়ের পরিকল্পিত মিছিলের প্রাক্কালে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ..
লাহোরে পিটিআইয়ের পরিকল্পিত মিছিলের প্রাক্কালে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ..
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী সপ্তাহের প্রতিবাদ মিছিলের ঠিক আগে লাহোরে তাঁর বোন আলিমা খানকে ৩০ দিনের preventive detention-এ পাঠিয়ে কারাগারে আটক করেছে প্রশাসন।..

২৭ সেপ্টেম্বর দলের পরিকল্পিত প্রতিবাদ মিছিলের প্রাক্কালে পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে লাহোরের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পাঞ্জাবের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাহোর জেলা প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অজুহাতে এই আকস্মিক আটকাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে যে, আসন্ন জনসমাগমস্থলে আলিমা খানের উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য তীব্র ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার ফলে তাঁকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে সরাসরি কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মূলত ইমরান খানের মুক্তি এবং চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের উদ্দেশ্যে পিটিআইয়ের ঘোষিত ইসলামাবাদ অভিমুখে প্রতিবাদ মিছিলের মাত্র কয়েক দিন আগে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই নির্বিচারে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে একে বর্তমান সরকারের চরম রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং ভীতিপ্রসূত পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দাবি, ২৭ তারিখের পরিকল্পিত প্রতিবাদ কর্মসূচি সরকারের ভেতরে গভীর ভীতি সৃষ্টি করেছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই দমনপীড়নের মাধ্যমে। পিটিআইয়ের প্রভাবশালী নেতা জুলফি বুখারি আলিমা খানের এই গ্রেপ্তারকে 'অত্যন্ত ঘৃণ্য' হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন যে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে নস্যাৎ করতে এবং বিরোধী দলের কণ্ঠস্বর চিরতরে স্তব্ধ করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের মতে, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রমাণ ছাড়াই কেবল রাজনৈতিক প্রতিশোধপরায়ণতার বশবর্তী হয়ে পরিবারের নারী সদস্যদের এভাবে টার্গেট করা আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে এই কঠোর অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, আসন্ন প্রতিবাদ মিছিল প্রতিহত করতে প্রশাসন সম্ভাব্য সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সরকারের এই অনমনীয় মনোভাব প্রমাণ করে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এহেন হুমকিমূলক বক্তব্যের পরই আলিমা খানের গ্রেপতারের ঘটনাটি ঘটে, যা থেকে পরিষ্কার যে প্রশাসন কোনোভাবেই পিটিআইকে রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করতে দিতে নারাজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই পক্ষপাতদুষ্ট ও আগ্রাসী ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও বেশি সংকুচিত করে তুলছে এবং ক্ষমতাসীন ও বিরোধী পক্ষের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের বরফ গলানোর পথকে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তুলছে।

এই ধরনের রাজনৈতিক দমনপীড়ন ও নির্বিচার গ্রেপ্তারের সংস্কৃতি পাকিস্তানের ভঙ্গুর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা প্রদান এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের এই প্রবণতা কেবল বিরোধী দলের আন্দোলনকেই সাময়িকভাবে দমাতে পারে, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদে জনরোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। যখন সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক সংকট ও নানা সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত, তখন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দমন করার এই অপচেষ্টা দেশের অভ্যন্তরে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে। পরিশেষে, এই ধরনের দমনমূলক নীতি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে মেরুদণ্ডহীন করে তুলছে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সংলাপের সম্ভাবনাকে চিরতরে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator