মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র: রিয়াদ লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নস্যাৎ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র: রিয়াদ লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নস্যাৎ..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র: রিয়াদ লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নস্যাৎ..
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র: রিয়াদ লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নস্যাৎ..
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা, যা মাঝপথেই প্রতিহত করেছে সৌদি-নেতৃত্বাধীন ..

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং এর আশপাশের কৌশলগত এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ইয়েমেনের তেহরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। শনিবার ভোরবেলায় চালানো এই হামলার ঘটনায় রিয়াদের বাসিন্দারা তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান এবং বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। তবে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি অনুযায়ী, হামলাটি সফল হওয়ার আগেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝপথেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের হতাহত বা তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও, রিয়াদকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন একটি রণাঙ্গন উন্মোচন করেছে। হুথিদের এই আগ্রাসী পদক্ষেপে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন যে, রিয়াদের সংবেদনশীল স্থাপনা এবং লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই মূলত এই ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়েছিল। এর আগে বৃহস্পতিবার মাঝপথে ধ্বংস হওয়া একটি হুথি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সৌদি আরবে বসবাসরত এক ইয়েমেনি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা এই সংঘাতে প্রথম বেসামরিক প্রাণহানির নজির স্থাপন করে। এছাড়া সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, হুথি বিদ্রোহীরা ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কা এবং তাইফ, বাইশ ও ফারাসান এলাকার বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মস্থানের নিরাপত্তাকে সৌদি আরব তাদের অলঙ্ঘনীয় বা রেড লাইন হিসেবে ঘোষণা করলেও, হুথিরা মক্কা আক্রমণের অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, এই ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুদ কমে আসায় রিয়াদ ইতোমধ্যে ফ্রান্স, ব্রিটেন, পাকিস্তান ও মিশরের কাছে জরুরি প্রতিরক্ষা সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যকার চার বছরের তুলনামূলক স্থিতিশীলতা ভেঙে যাওয়ায় এই সংঘাত এখন পুনরায় এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের রূপ নিচ্ছে। বিদ্রোহীরা সম্প্রতি লোহিত সাগর উপকূলীয় অঞ্চলের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। এর ফলে ওই আন্তর্জাতিক নৌ-রুট দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হুথিদের নজরদারি ও আক্রমণাত্মক ক্ষমতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও হুথিরা দাবি করে আসছে যে তারা কেবল সৌদি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, তবুও এই জলপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক চলাচলের ওপর গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকার ইঙ্গিত দিলেও, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই বহুমুখী হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ চেইন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আঞ্চলিক যুদ্ধের বিস্তৃতি কেবল সৌদি আরব বা ইয়েমেনের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে নাড়া দিচ্ছে। হুথিদের এই দুঃসাহসিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রমাণ করে যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সামরিক সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত দূরত্ব দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, যা সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল ও পরাশক্তিগুলো যদি এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে লোহিত সাগরের এই সংবেদনশীল জলপথ এবং রিয়াদের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে হামলার পুনরাবৃত্তি বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ভবিষ্যতে এই সংঘাতের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেলে তা শুধু সৌদি আরব বা ইয়েমেন নয়, বরং গোটা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর এক দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator