নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খালেদ উজ্জামান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খালেদ উজ্জামান..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খালেদ উজ্জামান..
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খালেদ উজ্জামান..
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান। এই কার্যক্রমে সরাসরি ঝাড়ু হাতে অংশ নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যাল..

রবিবার সকালে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খালেদ উজ্জামান। এদিন সকালের দিকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে যখন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছিল, তখন প্রশাসনিক সর্বোচ্চ পদে আসীন একজন ব্যক্তিকে গ্লাভস ও সার্জিক্যাল ক্যাপ পরে নিজ হাতে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছা পরিষ্কার করতে দেখা যায়। এই দৃশ্য উপস্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ এবং ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দেয়। মূলত দেশে বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করায় এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার তাগিদ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ এর সূচনা করেছে। ঘটনার দিন সকালে উপাচার্য নিজে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ভূমিকা পালন করে ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি দূর করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করেন, যা পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে মুহূর্তের মধ্যে উদ্দীপ্ত করে তোলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদের একজন ব্যক্তি এভাবে ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নেমে আসায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক নতুন গতি এনেছে। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খালেদ উজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান যে তিনি নিজেকে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো আমলা বা দূরবর্তী প্রশাসক হিসেবে দেখতে নারাজ, বরং তিনি সবসময় নিজেকে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। তাঁর মতে, প্রকৃত নেতৃত্ব কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে আদেশ-নির্দেশ জারির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং নিজের আচরণের মাধ্যমে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করাই হলো দূরদর্শী নেতৃত্বের মূল বৈশিষ্ট্য। তবে চলমান সেমিস্টার বা টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার চাপের কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বিশেষ কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারলেও, পরীক্ষা সমাপ্ত হওয়ার পরপরই ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে আরও বৃহত্তর পরিসরে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি না করে প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের এমন মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি ক্যাম্পাস সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

উপাচার্যের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কার্যক্রমে নিজেদের যুক্ত করেছেন, যা প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিং ও জনসচেতনতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনার ওপর ভরসা না রেখে শীর্ষ কর্তাদের এমন মাঠপর্যায়ের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হলে আগে কর্তাব্যক্তিদের নিজেদেরই বদলাতে হয়। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সাময়িক কোনো লোক দেখানো কর্মসূচি নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমেই ক্যাম্পাসের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব। উপাচার্য মহোদয় সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন কেবল ক্যাম্পাসের ভেতরেই নয়, বরং হলের ডাইনিং, ক্যাফেটেরিয়া এবং আশপাশের প্রতি ইঞ্চি জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়। এ ধরনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক ধরনের সামাজিক চাপ ও সচেতনতা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের গণ্ডি পেরিয়ে সমগ্র দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলে চলেছে। বর্তমান সময়ে যখন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক জটিলতা এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, ঠিক তখন একজন উপাচার্যের এমন সাদাসিধে ও দায়িত্বশীল আচরণ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকদের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পরিবেশগত সুরক্ষা এবং ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় কেবল পোস্টার-ব্যানার সর্বস্ব সচেতনতা নয়, বরং নিজেদের ঘরের কোণ থেকে শুরু করে চারপাশ পরিষ্কার রাখার এই ব্যক্তিগত অভ্যাস গড়ে তোলার বিকল্প নেই। দিনশেষে, রবিবারের সেই সকালের ঝাড়ু হাতে নেওয়ার দৃশ্যটি নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনোজগতে এক গভীর রেখাপাত করেছে, যা আগামী দিনে একটি পরিচ্ছন্ন, সচেতন এবং দায়িত্বশীল জাতি গঠনে নেপথ্য শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator