সোনারগাঁ লোকজ শিল্প জাদুঘরের প্রধান সড়কের বেহাল দশা: ঐতিহ্যের দুয়ারে পর্যটকের ভোগান্তি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সোনারগাঁ লোকজ শিল্প জাদুঘরের প্রধান সড়কের বেহাল দশা: ঐতিহ্যের দুয়ারে পর্যটকের ভোগান্তি..

Mohammad Abdul Qaiyum Nahid avatar   
Mohammad Abdul Qaiyum Nahid
সোনারগাঁ লোকজ শিল্প জাদুঘরের প্রধান সড়কের বেহাল দশা: ঐতিহ্যের দুয়ারে পর্যটকের ভোগান্তি..
সোনারগাঁ লোকজ শিল্প জাদুঘরের প্রধান সড়কের বেহাল দশা: ঐতিহ্যের দুয়ারে পর্যটকের ভোগান্তি..
ছবি: সংগৃহীত
বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁ। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর লোকজ সংস্কৃতির তীর্থভূমি। কিন্তু সেই তীর্থের প্রধান ফটকে যাওয়ার পথটাই আজ মরণফাঁদ।..

আব্দুল কাইয়ুম নাহিদ ,সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের (সোনারগাঁ যাদুঘর) প্রধান ফটক থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংযোগকারী জনগুরুত্বপূর্ণ 'টিপরদি সড়কটি' দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন হাজারো পর্যটক, গবেষক, শিক্ষার্থী প্রবেশ করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে। 

সরেজমিনে যা দেখা গেল , যাদুঘরের ১নং গেট থেকে ৬১নং তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।  বিশেষ করে ইছাপাড়া বায়তুল আকসা জামে মসজিদের সামনের অংশে সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই খানাখন্দে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। ফলে রিকশা, অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার ঘটনা এখন নিত্যদিনের।     

এইসড়কটিশুধুপর্যটনসড়কনয়।উপজেলাপ্রশাসন, উপজেলাস্বাস্থ্যকমপ্লেক্স, ভূমিঅফিস, সোনারগাঁথানাএবংবিভিন্নশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরকয়েকহাজারমানুষপ্রতিদিনএইসড়কদিয়েযাতায়াতকরেন।

স্থানীয়দেরঅভিযোগ, নিম্নমানেরসামগ্রীদিয়েসংস্কারেরমাত্রদুইবছরেরমাথায়ভারীযানবাহনেরচাপেসড়কেরখোয়াউঠেএইবেহালদশারসৃষ্টিহয়েছে।

সোনারগাঁ জিআর ইনস্টিটিউশন স্কুলে পড়ুয়া সুমাইতা ‍বুশরা নামে একজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিদিন সড়কটিতে অনেক ভারী যানবাহন চলাচল করে। এই ভাঙা সড়ক দিয়ে মনে অনেক ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে স্কুলে যেতে হয়। এ সড়ক ব্যতীত বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

এবিষয়েমসজিদকমিটিরসহ-সভাপতিমো. সেলিমহোসাইনওসমাজসেবকশাহাদাতহোসেনলিটুদ্রুতসড়কটিসংস্কারেরদাবিজানিয়েছেন।

স্থানীয় স্থানীয় বাসিন্দা   রিপন খান বলেন, এটি পানাম নগরী ও সোনারগাঁও জাদুঘরের প্রধান যাতায়াত সড়ক। প্রতিদিন বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক এ পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রায়ই সিএনজি ও রিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতে ও বৃষ্টির পর খানাখন্দ দেখা না যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ে, যা পর্যটকদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

জাদুঘরে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সামিয়া ইসলাম বলেন, সোনারগাঁও একটি ঐতিহাসিক স্থান। এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মূল সড়কের এই বেহাল দশা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত এটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

 

 অটোরিকশা চালকরা জানান, গর্তের কারণে তারা যাত্রী নিয়ে এই সড়কে প্রবেশ করতে চাইছেন না। এতে যাদুঘরে আসা পর্যটক, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। 

 

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক শাখাওয়াত হোসেনও পর্যটকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। 

 

সড়কের বেহাল দশার বিষয়ে সোনারগাঁও পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম বলেন, জাদুঘরে প্রবেশের এ সড়কটি পৌরসভার আওতাধীন নয়, এটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অওতাধীন। তবে পর্যটক ও নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে পৌরসভার পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেঘনা গ্রুপ ও আমান গ্রুপের ভারী যানবাহন চলাচলের কারণেই মূলত সড়কটি দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। বিষয় দুটি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার জানানো হলে তারা অর্থায়নের আশ্বাস দিলেও তা এখনো দেয়নি। এছাড়া সরকারি প্রজেক্টে প্রস্তাব পাঠানো হলেও দুই বছর ধরে তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে পৌরসভা থেকে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সোনারগাঁওউপজেলানির্বাহীকর্মকর্তা (ইউএনও) ওপৌরপ্রশাসকআসিফআলজিনাতজানান, "সড়কটিরবেহালঅবস্থাআমিনিজেদেখেছি।এটিঅত্যন্তজনগুরুত্বপূর্ণএকটিরাস্তা।জনদুর্ভোগলাঘবেখুবদ্রুতসড়কটিসংস্কারেরউদ্যোগনেওয়াহবে"।

প্রতি বছর শীত মৌসুমে লাখো দেশি-বিদেশি পর্যটক সোনারগাঁ যাদুঘর, পানাম নগরী ও আশপাশের দর্শনীয় স্থান দেখতে আসেন। যেখানে জাদুঘরের ভেতরে বড় সর্দার বাড়ি, কারুশিল্প গ্রাম ও লোকজ মঞ্চকে সাজানো হচ্ছে নতুন রূপে, সেখানে প্রধান সড়কের এই করুণ দশা পুরো পর্যটন অভিজ্ঞতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

 

পর্যটকরা বলছেন, ঢাকা থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে এত সমৃদ্ধ একটি জাদুঘরে পৌঁছাতে শেষ এক কিলোমিটার পথই সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ইউএনও'র আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator