শুক্রবার বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানজীম রুবাইয়াত আফিফ ও সদস্য সচিব মোস্তাফিজুল কবীর মমি আলসারী স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ এবং ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্ররাজনীতির কার্যক্রম আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের অনুমোদনক্রমে এই কমিটিগুলো গঠন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সাংগঠনিক প্রক্রিয়াকে সচল করতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে দলের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে কেন্দ্রীয় নেতারা এই রদবদল এনেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘোষণার পরপরই সংশ্লিষ্ট কলেজ শাখাগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, যা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ঘোষিত বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আনা হয়েছে নতুন মুখ। এই শাখায় জিহাদুল মোতালেব মার্শালকে আহ্বায়ক, রায়হান আমিন ফাহিমকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জোবায়েল আলম পাভেলকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন এই তিন নেতার যৌথ স্বাক্ষরেই এখন থেকে শাখাটির যাবতীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্বে মো. মহিবুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং গোলাম সরোয়ার হিমেলকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া এই শাখায় আটজন যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাতজন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যা কমিটিটিকে অপেক্ষাকৃত বড় ও বিস্তৃত আকার দিয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত কমিটিগুলোর কার্যক্রম কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটিকে আগামী ত্রিশ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বের এই কড়াকড়ি নির্দেশনার ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন নেতারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। চিকিৎসাবিদ্যার মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও কঠোর পড়াশোনার পরিবেশেও ছাত্রদলের এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কতটা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয় এবং সাধারণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে রাজনীতি কীভাবে এগোয়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল জায়গায় ছাত্রদলের এই নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও পোক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে অতীতের বিভিন্ন সময়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে ছাত্ররাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব ও কোন্দলের যে ইতিহাস রয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কমিটির নেতারা কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবসময় চায় তাদের শিক্ষাঙ্গন সহিংসতামুক্ত ও শিক্ষাবান্ধব থাকুক। ফলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা যদি সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ও একাডেমিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবেই এই কমিটির প্রকৃত সাফল্য আসবে এবং ছাত্রদল চিকিৎসকদের মাঝে একটি গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।