ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় এক নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে জীবনের প্রতিটি ধাপে নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে সংবাদকর্মী ও তরুণ সংগঠক হিসেবে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন আনিসুর রহমান। শৈশবের শৈল্পিক স্বপ্ন সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার গণ্ডি পেরিয়ে সময়ের সঙ্গে তাঁর চিন্তা ও চেতনায় এক গভীর রূপান্তর ঘটে, যার ফলে তিনি সমাজের বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। ছাত্র অধিকার পরিষদের তারাকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গোড়াপত্তন ঘটে এবং পরবর্তীতে তিনি জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদকের গুরুদায়িত্বও সফলভাবে পালন করেন। তবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে মতপার্থক্য এবং যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে তিনি একপর্যায়ে পদত্যাগ করে সাময়িক দূরত্ব তৈরি করলেও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের প্রবল অনুপ্রেরণায় তিনি পুনরায় জনকল্যাণমূলক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় যুবশক্তি তারাকান্দা উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর মূল লক্ষ্যই হলো প্রান্তিক মানুষের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখা। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে ওঠে গণমানুষের কল্যাণ সাধনের এই নিরলস প্রচেষ্টা তারাকান্দার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণের সৃষ্টি করেছে, যা তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করছে।
রাজনীতির সমান্তরালে আনিসুর রহমান প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার দুনিয়ায় একজন নিষ্ঠাবান সংবাদকর্মী হিসেবে নিজের পেশাগত মুন্সিয়ানা প্রদর্শন করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি আজকের খবর পত্রিকার ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি এবং আই নিউজ বিডি ও মর্নিং পোস্টের তারাকান্দা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকার বিভিন্ন সুপ্ত সমস্যা, জনদুর্ভোগ, সামাজিক অসংগতি এবং তৃণমূলের উন্নয়নে নানা অব্যবস্থাপনার চিত্র তিনি সাহসের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরছেন, যা স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাংবাদিকতার এই পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমেও নিজেকে নিবিড়ভাবে যুক্ত রেখেছেন। নবজাগরণ ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি অব বাংলাদেশের মতো সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ধর্মীয় উপাসনালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। তাঁর এই বহুমুখী কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, কেবল ক্ষমতা বা বড় কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নয়, বরং সমাজের অবহেলিত মানুষের সেবায় মানসিক দৃঢ়তা এবং সৎ ইচ্ছাই মূল চালিকাশক্তি। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা তাঁর এমন নিঃস্বার্থ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করছেন এবং তাঁকে তরুণ সমাজের এক অনুকরণীয় আইকন হিসেবে দেখছেন।
নিজের এই দীর্ঘ পথচলা এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আনিসুর রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য কোনো বিত্তবৈভব বা রাজকীয় পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না, এর জন্য প্রয়োজন কেবল সততা, সাহসিকতা, অকৃত্রিম ত্যাগ এবং মানুষের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা। রাজনীতি ও সাংবাদিকতাকে তিনি ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার না করে, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের একটি কার্যকর ও শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাঁর এই আদর্শিক অবস্থান স্থানীয় রাজনীতি ও সাংবাদিকতা উভয় জগতেই এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে, যেখানে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সমষ্টিগত কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নই প্রধান অগ্রাধিকার পাচ্ছে। নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে লড়াই করে উঠে আসা এই তরুণের জীবনসংগ্রাম এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এলাকার উঠতি যুবসমাজকে অসদুপায় পরিহার করে সমাজ সংস্কার ও গঠনমূলক কাজে অংশ নিতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করছে। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টার ফলে তারাকান্দার জনপদে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিভিন্ন সংকটে সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, আনিসুর রহমানের এই সংগ্রামী পথচলা এবং বহুমুখী জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড কেবল তারাকান্দা অঞ্চলেই নয়, বরং বৃহত্তর সমাজেও এক সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যক্তিগত সাফল্যের মোহে অন্ধ না হয়ে সমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা থেকে তিনি যেভাবে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠছেন, তা বর্তমান সময়ের তরুণ নেতৃত্বের জন্য একটি দারুণ দৃষ্টান্ত। একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তিনি বুকে ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা আগামী দিনে আরও গতিশীল হবে বলেই স্থানীয় সচেতন মহলের বিশ্বাস। আঞ্চলিক রাজনীতি ও সাংবাদিকতার মানদণ্ডে সততা ও নৈতিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করে তিনি যেভাবে এগিয়ে চলেছেন, তাতে ভবিষ্যতে তিনি সমাজের আরও উঁচুতলার সংস্কার সাধনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন বলে সকলে আশাবাদী।