সৌদি আরবে ১১ কোটি টন বিরল মৃত্তিকা ও ইউরেনিয়াম আবিষ্কার, বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মোড়.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সৌদি আরবে ১১ কোটি টন বিরল মৃত্তিকা ও ইউরেনিয়াম আবিষ্কার, বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মোড়..

নাফিসা রহমান  avatar   
নাফিসা রহমান
সৌদি আরবে ১১ কোটি টন বিরল মৃত্তিকা ও ইউরেনিয়াম আবিষ্কার, বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মোড়..
সৌদি আরবে ১১ কোটি টন বিরল মৃত্তিকা ও ইউরেনিয়াম আবিষ্কার, বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মোড়..
ছবি: সংগৃহীত
তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে আসার প্রচেষ্টায় বড় সাফল্য পেল সৌদি আরব। দেশটির ভূগর্ভে ১১ কোটি টন বিরল মৃত্তিকা ধাতু (Rare Earth Elements) এবং ইউরেনিয়াম আবিষ্কৃত হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতি..

রিয়াদ: জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে নিজেদের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব। এই প্রচেষ্টায় এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে দেশটি। সম্প্রতি সৌদি ভূগর্ভে বিশাল পরিমাণ বিরল মৃত্তিকা ধাতু (Rare Earth Elements) এবং ইউরেনিয়ামের সন্ধান মিলেছে, যার পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি টন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রখ্যাত সামরিক বিশ্লেষক মেজর গৌরব আর্য তাঁর 'দ্য চাণক্য ডায়ালগস' অনুষ্ঠানে এই বিশাল খনিজ আবিষ্কারের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হলো এই রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস বা বিরল মৃত্তিকা ধাতু। এতদিন পর্যন্ত এই খনিজ সম্পদের বাজারে চীন একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিল। তবে সৌদি আরবের এই বিশাল আবিষ্কার বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই খনিজ সম্পদ উত্তোলনের মাধ্যমে সৌদি আরব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি শক্তিধর দেশই নয়, বরং আগামী দিনের প্রযুক্তিগত পরাশক্তিতে পরিণত হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। বিশেষ করে সবুজ শক্তি বা গ্রিন এনার্জির যুগে ট্রানজিশন বা রূপান্তরের ক্ষেত্রে এই উপাদানগুলো অত্যন্ত অপরিহার্য। এর সাথে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি দেশটির পারমাণবিক শক্তি অর্জনের পরিকল্পনাকেও ত্বরান্বিত করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আবিষ্কারের ফলে বৈশ্বিক রাজনীতি এবং কূটনীতিতে সৌদি আরবের দরকষাকষির ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপীয় দেশগুলো এখন রিয়াদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আরও বেশি আগ্রহী হবে। কারণ আধুনিক যুগের সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক যান (EV) এবং উইন্ড টারবাইন তৈরিতে বিরল মৃত্তিকা ধাতুর বিকল্প নেই।

সব মিলিয়ে, তেলের ওপর নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। ১১ কোটি টন বিরল মৃত্তিকা ও ইউরেনিয়ামের এই খনি সৌদি আরবকে কেবল অর্থনৈতিকভাবে নয়, বরং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে। খনিজ উত্তোলনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প 'ভিশন ২০৩০'-কে বাস্তবায়ন করতে কতটা ভূমিকা রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সোর্স: youtu.be

לא נמצאו הערות


News Card Generator