ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসু জাদুঘরে মুজিবের ছবি সরিয়ে জিন্নাহর প্রতিকৃতি স্থাপন: তীব্র অসন্তোষ ও প্রশাসনিক তদন্ত শুরু.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসু জাদুঘরে মুজিবের ছবি সরিয়ে জিন্নাহর প্রতিকৃতি স্থাপন: তীব্র অসন্তোষ ও প্রশাসনিক তদন্ত শুরু..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসু জাদুঘরে মুজিবের ছবি সরিয়ে জিন্নাহর প্রতিকৃতি স্থাপন: তীব্র অসন্তোষ ও প্রশাসনিক তদন্ত শুরু..
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসু জাদুঘরে মুজিবের ছবি সরিয়ে জিন্নাহর প্রতিকৃতি স্থাপন: তীব্র অসন্তোষ ও প্রশাসনিক তদন্ত শুরু..
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংস্কারাধীন জাদুঘরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংবলিত ছবি সরিয়ে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতিকৃতি স্থাপনের ঘটনায় ক্যা..

গত রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংস্কারকৃত জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকেই ক্যাম্পাসে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ডাকসুর ‘মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক’ ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফারহাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জাদুঘরটি পুনরায় চালুর সময় দেখা যায় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের একক ও গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিশেষ করে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা ও একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মতো সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বের স্মারকগুলোর স্থলে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি পৃথক ছবি স্থাপন করা হয়। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ইউনাইটেড স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স’-এর ডাকসু নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে, যা মূলত দেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ডিসকোর্সে এক গভীর মেরুকরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে।

জাদুঘরে পাকিস্তানি স্বাধিকার আন্দোলনের নেতার ছবি টাঙানোর এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার আকস্মিকতায় ক্ষুব্ধ হয়ে আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী জাদুঘরে প্রবেশ করে জিন্নাহর ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন এবং ক্ষতিকারক এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের মতে, যিনি ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করেছিলেন এবং কার্জন হলে শিক্ষার্থীদের ওপর দমনপীড়ন চালিয়েছিলেন, তাঁর প্রতিকৃতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পবিত্র প্রাঙ্গণে কোনোভাবেই স্থান পেতে পারে না। এদিকে ছাত্রদলও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে তথাকথিত শিবির-নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর ‘পাকিস্তান প্রীতি’ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে ডাকসু কর্তৃপক্ষের দাবি, ফ্যাসিবাদী প্রতীক অপসারণের অংশ হিসেবে এবং ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে জিন্নাহর ছবি রাখা হয়েছিল, যা কোনোভাবেই তাঁকে মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে নয়। কিন্তু ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের একপেশে পদক্ষেপ ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক পরিবেশের ওপর এক বিরাট আঘাত।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং অননুমোদিত উপায়ে ঐতিহাসিক স্মারক পরিবর্তন ও সমান্তরাল প্রশাসন গড়ে তোলার অপচেষ্টা রোধে নড়েচড়ে বসেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের তথ্য অনুযায়ী, জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন এবং অন্যান্য অননুমোদিত কার্যক্রমের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এই পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্সকর্তৃপক্ষ তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খানের মতো বিশিষ্ট শিক্ষাবিদেরাও এই ঘটনাকে একটি দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নতুন ইতিহাস রচনার সুদূরপ্রসারী অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে এর কঠোর সমালোচনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং প্রশাসনের তদন্তের ঘোষণা প্রমাণ করে যে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আদর্শিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বর্তমানে একটি চরম সংবেদনশীল পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, যা অবিলম্বে সুরাহা করা না হলে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এই বিতর্কিত ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে সমগ্র জাতীয় রাজনীতি এবং ঐতিহাসিক মূল্যায়নের পরিসরেও গভীর রেখাপাত করছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ভিত্তি ও স্মারকগুলোকে বিতর্কিত উপায়ে প্রতিস্থাপন করার এই প্রবণতা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি ও তীব্র মেরুকরণ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত পক্ষপাতহীনভাবে গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক ও উসকানিমূলক রাজনীতি রোধে অবিলম্বে কঠোর ও দৃশ্যমান নীতিমালার প্রয়োগ করা।

Nessun commento trovato


News Card Generator