৯/১১ হামলার আগে ওসামা বিন লাদেনকে কেন হত্যা করা হয়নি, নেপথ্য কারণ ফাঁস করলেন বিল ক্লিনটন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

৯/১১ হামলার আগে ওসামা বিন লাদেনকে কেন হত্যা করা হয়নি, নেপথ্য কারণ ফাঁস করলেন বিল ক্লিনটন..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
৯/১১ হামলার আগে ওসামা বিন লাদেনকে কেন হত্যা করা হয়নি, নেপথ্য কারণ ফাঁস করলেন বিল ক্লিনটন..
৯/১১ হামলার আগে ওসামা বিন লাদেনকে কেন হত্যা করা হয়নি, নেপথ্য কারণ ফাঁস করলেন বিল ক্লিনটন..
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন প্রকাশ করেছেন যে, ৯/১১ হামলার আগে সিআইএর তীব্র আপত্তির কারণেই ওসামা বিন লাদেনকে নির্মূল করার অভিযান বাতিল করা হয়েছিল।..

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলার আগেই আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর পরিকল্পনা সিআইএ বাতিল করেছিল। ডব্লিউএবিসি রেডিওর ‘ক্যাটস রাউন্ডটেবিল’ অনুষ্ঠানে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ৮০ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক এই নেতা জানান, সে সময় তিনি নিজে গোয়েন্দা সংস্থাকে বিন লাদেনকে নির্মূল করার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন যে তাকে জীবিত ধরা সম্ভব না হলে যেন থামিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থান এবং অপারেশন চলাকালীন বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির চরম আশঙ্কার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই ঝুঁকি আর নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিল ক্লিনটন স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওসামা বিন লাদেনকে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় এবং মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং তাকে ধরার জন্য সে সময় তিনি সম্ভাব্য সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। সিআইএর সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে বিশ্ব ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে যাওয়া সেই করুণ অধ্যায় নিয়ে ক্লিনটনের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অপারেশন বাস্তবায়নের শেষ মুহূর্তে গোয়েন্দা সংস্থার ভেটোর কারণে পরিকল্পনা থমকে যাওয়ায় বিশ্বকে পরবর্তীতে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আজ পর্যন্ত বিশ্ব রাজনীতিতে অনুভূত হচ্ছে।

সিআইএর পক্ষ থেকে সে সময় যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, আফগানিস্তানের দুর্গম ভূখণ্ডে অত্যন্ত জটিল ওই সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে যদি সামান্যতম লক্ষ্যভ্রষ্ট বা অপারেশনাল ব্যর্থতা ঘটে, তবে প্রচুরসংখ্যক নিরপরাধ সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এই অতিরিক্ত সতর্কতার কথা স্বীকার করে বিল ক্লিনটন জানান যে, তিনি সেই মুহূর্তে তাদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি, কারণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার একটি বাস্তবসম্মত ঝুঁকি সেখানে বিদ্যমান ছিল। তবে ক্লিনটনের মতে, ওসামা বিন লাদেন কেবল একজন সাধারণ সন্ত্রাসী ছিল না, বরং তার বিশাল আর্থিক সচ্ছলতা, বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং সুদূরপ্রসারী ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা তাকে এক অদম্য বিপদে পরিণত করেছিল। সাবেক এই প্রেসিডেন্ট গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, যদি সেই সময়ে গোয়েন্দা সংস্থাকে আরও বেশি জোর দিয়ে অভিযান পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যেত কিংবা সিআইএর অতিরিক্ত সতর্কতা অতিক্রম করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো, তবে হয়তো ইতিহাসের গতিপথ অন্যরকম হতে পারত। তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের এই নীতিগত দ্বন্দ্ব, অপারেশনের ঝুঁকি বনাম নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশ এবং গোয়েন্দা মূল্যায়নের ত্রুটিগুলো পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সামনে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কায় একটি ভয়াবহ মানব দানবকে সে সময় রক্ষা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার সেই সিদ্ধান্তটি পরবর্তীতে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সাক্ষাৎকারটিতে বিল ক্লিনটন আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যখন সুদূর অস্ট্রেলিয়ায় বসে তিনি টেলিভিশনের পর্দায় দ্বিতীয় বিমানটিকে টুইন টাওয়ারে আঘাত হানতে দেখেন, তখন সামান্যতম সন্দেহের অবকাশ ছাড়াই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পেরেছিলেন যে এই বর্বরোচিত হামলার মূল হোতা ওসামা বিন লাদেন ছাড়া অন্য কেউ নয়। ওয়াশিংটনে অবস্থানরত হিলারি ক্লিনটন এবং লোয়ার ম্যানহাটনে আটকে পড়া তাদের তরুণী কন্যার নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার সেই মুহূর্তগুলোতেও ক্লিনটনের মনে বিন লাদেনের নামটিই প্রথম ভেসে উঠেছিল, কারণ তিনি আগে থেকেই জানতেন যে মার্কিন ভূখণ্ডে বড় ধরনের আঘাত হানার নিখুঁত প্রস্তুতি ওই সন্ত্রাসী অনেক আগে থেকেই গ্রহণ করে আসছিল। পরবর্তীতে অবশ্য বারাক ওবামার সময়কালে ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদে মার্কিন নেভি সিলের সফল এক গোপন অভিযানের মাধ্যমে ওসামা বিন লাদেনের জীবনের অবসান ঘটানো হয়। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সতর্ক করে বিল ক্লিনটন মন্তব্য করেছেন যে, নিউ ইয়র্ক শহর কিংবা মার্কিন ভূখণ্ড ভবিষ্যতে আবারও এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। তাই বর্তমান প্রশাসনকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কোনো ধরনের শৈথিল্য বা অসতর্কতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই বলে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ দূরদর্শিতাই কেবল ভবিষ্যৎ বিপর্যয় রোধ করতে পারে বলে তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে জোরালো মত প্রকাশ করেন।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator