সীমান্তে ছররা গুলির বদলে মানবতার বার্তা: বিএসএফ-বিজিবির নতুন নজির.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সীমান্তে ছররা গুলির বদলে মানবতার বার্তা: বিএসএফ-বিজিবির নতুন নজির..

Salauddin Akbar avatar   
Salauddin Akbar
সীমান্তে ছররা গুলির বদলে মানবতার বার্তা: বিএসএফ-বিজিবির নতুন নজির..
সীমান্তে ছররা গুলির বদলে মানবতার বার্তা: বিএসএফ-বিজিবির নতুন নজির..
ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মানবিক নজির স্থাপন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।..
 
সালাউদ্দিন আকবর , ঢাকা 
 
সীমান্ত বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কাঁটাতারের বেড়া, বিএসএফ-বিজিবির টানটান উত্তেজনা, বাকযুদ্ধ কিংবা বুলেটের শব্দ। কিন্তু সেই চেনা সমীকরণ বদলে দিয়ে এবার দুই দেশের সীমান্তে তৈরি হলো এক অনন্য মানবিকতার গল্প, যা ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও একবার নতুন করে জাগিয়ে তুলল।
 
সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মানবিক নজির স্থাপন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।ঝড়ের কবলে পড়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ২০ দিনের এক নিষ্পাপ নবজাতকসহ ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণ বাঁচিয়েছে তারা।
 
ঝড়ের তাণ্ডব ও ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ
জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাখেরআলী ঘাট থেকে জহুরপুর যাওয়ার পথে প্রবল ঝড় ও তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে একটি ছোট যাত্রীবাহী নৌকা। পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে নৌকাটি মাঝনদীতে ডুবে যায়। নৌকায় থাকা যাত্রীরা বাঁচার আকুতি নিয়ে স্রোতের সাথে ভাসতে ভাসতে একপর্যায়ে ভারতীয় জলসীমার অভ্যন্তরে চলে যান।
 

সীমান্তে যখন অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কড়া নজরদারি, ঠিক তখনই এই অসহায় মানুষদের ভাসতে দেখে বন্দুক উঁচিয়ে ধরেনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বরং সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদের লালগোলার খানদহ ক্যাম্পের ৭১ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা একে একে নদী থেকে ২০ দিন বয়সী এক অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া নবজাতক কন্যাশিশু, ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী ও ৪ জন পুরুষসহ মোট ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর বিএসএফ সদস্যরা তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যান এবং আতঙ্কিত ও শারীরিকভাবে অসুস্থ বাংলাদেশিদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা, শুকনো পোশাক ও খাবার সরবরাহ করেন।
 
উদ্ধার করার পরপরই বিএসএফের পক্ষ থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সাথে যোগাযোগ করা হয়। ঘটনার দিন রাতেই ফরিদপুর সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি জরুরি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএসএফ অত্যন্ত যত্ন সহকারে উদ্ধারকৃত ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। বিজিবি পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত, নৌকায় থাকা মোস্তফা (৬০) নামের এক ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যার সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
 

সীমান্তের চিরচেনা বৈরিতা ভুলে বিএসএফের এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপ দুই দেশের সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন মহলে এই ঘটনাটি বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। কর্ডিয়াল এই আচরণ প্রমাণ করে, কাঁটাতারের বেড়া যতই শক্ত হোক না কেন, সংকটের মুহূর্তে মানবতাই সবার উপরে।
 
 

 

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator