কচুয়া প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তুলপাই দারাশাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. নাছির আহমেদ গাজীর বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।
এর প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের সব ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম বর্জন করে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা দারাশাহী-তুলপাই বাজারসহ বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা তিনটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দ্রুত তদন্তে কমিটি গঠন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা এবং তদন্ত চলাকালে বা অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক মো. নাছির আহমেদ গাজীকে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহাত পাটোয়ারি ও মেহেদি হাসান বলেন, “শিক্ষার্থীরা সব ধরনের যৌন সহিংসতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে। এর আগেও আমরা কয়েকবার প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস বর্জন করছি।”
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার ও রাখি রাণী অভিযোগ করে বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষক নাছির আহমেদ গাজী আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন। আমরা তার পদত্যাগসহ শাস্তি দাবি করছি।”
বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য জুয়েল পাটোয়ারি বলেন, “বিগত দিনেও তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। কয়েকবার শালিস করে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তিনি সংশোধন হননি।”
বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাতিজির সঙ্গে ওই শিক্ষক খারাপ আচরণ করার পর তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।’”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “গত বৃহস্পতিবার কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছে। আজ হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলী আশরাফ খান বলেন, “শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও ক্লাস বর্জনের বিষয়টি শুনে বিদ্যালয়ে গিয়েছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্লাসে ফিরিয়ে এনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নাছির আহমেদ গাজীর বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।