লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর মাদকবিরোধী কৌশলে সামরিক জোট গঠন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর মাদকবিরোধী কৌশলে সামরিক জোট গঠন..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর মাদকবিরোধী কৌশলে সামরিক জোট গঠন..
লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর মাদকবিরোধী কৌশলে সামরিক জোট গঠন..
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী সামরিক কৌশলে সম্পৃক্ত হয়ে লাতিন আমেরিকার ডানপন্থী সরকারগুলো এক বিশাল আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট গড়ে তুলেছে।..

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের মাদকবিরোধী সামরিক কৌশলকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সরকারের মধ্যে এক অভিনব ও কঠোর সামরিক জোট গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে শুরু করে আন্দিজ পর্বতমালা হয়ে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এই ভূরাজনৈতিক পরিসরে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরুর মতো দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার এবং যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক ল্যাটিন আমেরিকা সফরকালে এই সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে পেরু আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন শিল্ড অফ দ্য আমেরিকাস নামক জোটে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছে। কলম্বিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদক চোরাচালানকারীদের আস্তানায় বিমান হামলা এবং মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই অঞ্চলের ডানপন্থী সরকারগুলো অপরাধ দমনে কঠোর শক্তি প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করেছে। মূলত আন্তর্জাতিক মাদক চক্রগুলোর ক্রমবর্ধমান আর্থিক ক্ষমতা এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের বিস্তার রোধেই ওয়াশিংটন ও আঞ্চলিক মিত্ররা এই যৌথ সামরিক কাঠামোর রূপরেখা তৈরি করেছে, যা বর্তমান ভূরাজনীতিতে এক গভীর প্রভাব ফেলছে।

এই কঠোর মাদকবিরোধী অভিযันগুলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও, মাঠপর্যায়ে এর জেরে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার মাত্রা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলান্দো দে লা এসপ্রিয়েলার প্রশাসন এবং অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর নেতৃত্ব অপরাধ দমনে বিচারবহির্ভূত পদ্ধতি ও বিমান হামলার মতো নির্মম কৌশল বেছে নিয়েছে, যা কারিগরিভাবে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর মনে হলেও মানবাধিকারের মৌলিক প্রশ্নগুলোকে সামনে নিয়ে আসছে। উদাহরণস্বরূপ, রিওহাচা শহরে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক কমান্ডো অভিযানে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নাইন পেরেজসহ তার প্রেমিকা ও সহযোগীদের হত্যার পর লাশের সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়া রাষ্ট্রপ্রধানের রাজনৈতিক ভাষণ এই অভিযানের সামরিক ও রাজনৈতিক রূপকে স্পষ্ট করে। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে ইপসোসের সাম্প্রতিক বৈচিত্র্যময় জরিপেও দেখা গেছে যে, পেরু ও কলম্বিয়ার সাধারণ নাগরিকদের অর্ধেকেরও বেশি অংশ সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতাকে তাদের প্রধান সংকট হিসেবে দেখছেন। আর এই সামাজিক আতঙ্কের সুযোগ নিয়েই সরকারগুলো চরমপন্থী সামরিক পদক্ষেপকে বৈধতা দিচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় জনগণের একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই সার্বিক পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এবং মার্কিন নীতিমালার পেছনের রাজনৈতিক হিসাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি-নির্ধারণী সংস্থা স্টিমসন সেন্টারের লাতিন আমেরিকা কর্মসূচির বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠিত অপরাধ দমনে নিজেদের কঠোর ভাবমূর্তি তুলে ধরার জন্য এই অঞ্চলের নেতারা চরম মাত্রায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন, যার ফলে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তার ওপর তাদের নির্ভরতা বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে প্রয়োজনে মার্কিন বাহিনী ড্রোন, যুদ্ধবিমান, রাডার ও সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি সরাসরি মাদকবাহী জাহাজ বা আস্তানা ধ্বংসের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে। তবে কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের স্থানীয় প্রশাসন মার্কিন এই সহযোগিতাকে তাদের অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অপরাধী নেটওয়ার্ক নির্মূলের মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে দেখলেও, মাদকবিরোধী যুদ্ধের আড়ালে দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক সংস্কার বা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের গভীরে শিকড় গেঁথে থাকা দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতে এই সামরিক কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক কাঠামোর এই নজিরবিহীন সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রাজনীতি, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। অতীতে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটন-সমর্থিত সামরিক অভিযানগুলোর তিক্ত ইতিহাস এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ থাকার পরও নতুন করে গড়ে ওঠা এই সামরিক জোট প্রমাণ করে যে, গণতান্ত্রিক বা কূটনৈতিক সমাধানের চেয়ে শক্তিপ্রয়োগের নীতিকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। অপরাধের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাফল্যের মোড়কে এই সামরিক পদক্ষেপগুলো সাময়িকভাবে মাদক চক্রের শীর্ষ নেতাদের নির্মূল করতে সক্ষম হলেও, এটি দীর্ঘমেয়াদে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ফলে, লাতিন আমেরিকার সাধারণ মানুষের যাতায়াত, জীবনযাত্রার নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন এই আগ্রাসী সামরিক জোটের সাফল্য ও ব্যর্থতার ওপর সরাসরি নির্ভর করছে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator