নেত্রকোনায় রেলওয়ের জমিতে মাদ্রাসার নামফলক মোছার ঘটনায় উত্তেজনা, চলছে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নেত্রকোনায় রেলওয়ের জমিতে মাদ্রাসার নামফলক মোছার ঘটনায় উত্তেজনা, চলছে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
নেত্রকোনায় রেলওয়ের জমিতে মাদ্রাসার নামফলক মোছার ঘটনায় উত্তেজনা, চলছে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব..
নেত্রকোনায় রেলওয়ের জমিতে মাদ্রাসার নামফলক মোছার ঘটনায় উত্তেজনা, চলছে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদরে রেলওয়ের জমিতে প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসার নামফলক কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলার পর নতুন নামসংবলিত কাগজ লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন হস্তক্ষ..

গত শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদরের স্টেশন বাজার জামে সংলগ্ন পূর্বধলা রেলওয়ে স্টেশন মোহাম্মদিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রবেশগেটের নামফলক কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলার ঘটনা ঘটে। এদিন আনুমানিক বিকেল তিনটার দিকে সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় তাৎক্ষণিক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রেলওয়ের বৈধ ভূমি লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকে থাকা সিমেন্টের নামফলকে প্রতিষ্ঠানের নাম, অবস্থান, প্রতিষ্ঠার সাল, কোড এবং প্রতিষ্ঠাতার নাম খোদাই করা ছিল। কিন্তু সুপরিকল্পিতভাবে সেই নামফলকটি বিকৃত করার মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে একই স্থানে পরিবর্তিত নামে আরেকটি ছাপা কাগজ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়, যা স্থানীয় লোকজনের নজরে আসার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। কে বা কারা এই ধৃষ্টতাপূর্ণ কাজের সাথে সরাসরি জড়িত, তা নিয়ে সেদিন বিকেলে স্থানীয় মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মোড়ে উপস্থিত না থাকলেও খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পুরো পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন। এই আকস্মিক ভাঙচুর ও নাম পরিবর্তনের ঘটনাটি কেবল একটি নামফলক মোছার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর পেছনে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, ক্ষমতার কোন্দল এবং সম্পত্তি দখল বা নিয়ন্ত্রণের এক গভীর চক্রান্ত কাজ করছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার এই প্রকাশ্য বিরোধের ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান ঘটনার দিন জুমার নামাজের পর বাড়িতে থাকার সুযোগে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সিমেন্টের নামফলকটি প্রথমে কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলা হয় এবং পরবর্তীতে বিকেল পাঁচটার দিকে সেখানে নতুন নাম বসিয়ে দেওয়া হয়, যা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিকেল তিনটার দিকে একদল যুবক এসে কোনো তোয়াক্কা না করেই এই অপকর্ম চালায় এবং পরবর্তীতে তারাই আবার অন্য একটি নামসংবলিত কাগজ সাঁটিয়ে দিয়ে যায়। অন্যদিকে, এই ঘটনার পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন ও এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রয়াত আলহাজ্ব ডা. মোহাম্মদ আলীর পরিবার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশের মধ্যে এই দ্বন্দ্বে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিচিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র মতবিরোধ। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি মূলত মোহাম্মদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একটি পক্ষ এর নাম পরিবর্তন করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, মাদ্রাসার সামনের বেশ কিছু দোকান ভাড়ার অর্থ অতীতে মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হলেও বর্তমান কমিটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে সেই ভাড়া আত্মসাৎ বা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শক্ত নথিপত্র বা আইনি প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি, তবুও এই আর্থিক লেনদেন ও কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বই মূলত নামফলক মোছার এই আকস্মিক ঘটনার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে পুরো বিষয়টি এখন এক জটিল আইনি ও সামাজিক দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকার এবং প্রশাসনিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত বা অপর পক্ষের দাবি, স্থানীয় জনতা ও ভুক্তভোগীরা ক্ষুব্ধ হয়েই ঐতিহ্যগত নাম রক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘটনার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই দুই পক্ষের বিরোধ নিরসনে আগামী সোমবার উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, কেবল সাময়িক বৈঠক বা মৌখিক আশ্বাসের মাধ্যমে এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রেলওয়ের জমিতে প্রতিষ্ঠিত এই জনগুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বৈধ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং আইনি মালিকানা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায়, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের এই লড়াইয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে ব্যাহত হবে এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার স্থায়ী ঝুঁকি থেকেই যাবে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator