যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের বড় দাবি করল ইরান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের বড় দাবি করল ইরান..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের বড় দাবি করল ইরান..
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের বড় দাবি করল ইরান..
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত টিকিয়ে রাখতে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সাথে হরমুজ প্রণালী ও মার্কিন রণতরী লক্ষ্য করে তেহরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজ..

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘস্থায়ী ও সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন জলসীমায় ইরানের তেল ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর লাগাতার হামলার মুখেও পিছু না হটার অবস্থান স্পষ্ট করেছে দেশটির সরকার। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে সংঘাত কিছুটা ধীরগতির হওয়ার পর থেকেই ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে গেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ ও ট্যাঙ্কার ধ্বংসের পালটা জবাব দিতে তেহরান এখন সামরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা বলছেন যে তেহরান কেবল বর্তমান প্রশাসনের মেয়াদেই নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ওয়াশিংটনের কৌশলগত চাপের শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এই সংঘাতের অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করলেও, মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও গোয়েন্দা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, তেহরান তার সামরিক শক্তি ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে চাপে ফেলার সুনির্দিষ্ট ব্লুপ্রিন্ট নিয়ে এগোচ্ছে।

সংঘাতের এই পর্বে মার্কিন রণতরী ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করছে তেহরান। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার এবং দ্য ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার এবং মেরিন কোরের জাহাজের ওপর দফায় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এমনকি অত্যাধুনিক কাসেম বসির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন জলসীমায় আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়েছে, যা প্রতিহত করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনীও ইরানের অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক অভিযান চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে একের পর এক ইরানি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। কেবল জলপথেই নয়, জর্ডানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ১৩টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হানা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। এছাড়া ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্লাস্টার-মিউনিশন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই বহুমুখী হামলায় আমেরিকার বেশ কিছু যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোকেই স্পষ্টভাবে উন্মোচন করেছে। অর্থনৈতিক অবরোধের বিপরীতে ইরান এখন হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

ইরানের এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখে চরম বিপাকে পড়েছে মার্কিন মিত্ররা এবং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ওই অঞ্চলে সামুদ্রিক প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চল ঘোষণা করা হবে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের ট্যাঙ্কার ধ্বংসের নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিলেও, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি আরও বেশি জটিল ও রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠছে। তেহরানের মূল কৌশল হলো বাণিজ্যিক জাহাজ ও আঞ্চলিক জলসীমায় অস্থিরতা তৈরি করে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা ওয়াশিংটনকে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ও হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করে। চলমান এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ডিজেলের মূল্য রেকর্ড ভেঙে প্রতি গ্যালন ৫.৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক আশাবাদ ব্যক্ত করে সংঘাতের সমাপ্তি টানার কথা বললেও, উভয় পক্ষের অনমনীয় সামরিক অবস্থান এবং পালটাপালটি ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের কারণে এই সংকটের কোনো স্থায়ী বা শান্তিপূর্ণ সমাধান এই মুহূর্তে দৃশ্যমান নয়।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator