অতি-উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণহীন বিকাশ: মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়ে গুরুতর শঙ্কার মুখে শীর্ষ এআই ল্যাবগুলো.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অতি-উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণহীন বিকাশ: মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়ে গুরুতর শঙ্কার মুখে শীর্ষ এআই ল্যাবগুলো..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
অতি-উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণহীন বিকাশ: মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়ে গুরুতর শঙ্কার মুখে শীর্ষ এআই ল্যাবগুলো..
অতি-উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণহীন বিকাশ: মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়ে গুরুতর শঙ্কার মুখে শীর্ষ এআই ল্যাবগুলো..
ছবি: সংগৃহীত
অ্যানথ্রপিকের নিরাপত্তা গবেষকের পদত্যাগ ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী এক দশকের মধ্যে এআই-এর কারণে মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার ১০ শতাংশের বেশ..

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অতি দ্রুত ও অপরিকল্পিত বিকাশ মানবজাতির জন্য চরম অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ এআই ল্যাব অ্যানথ্রপিকের নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক জ্যাকব কক্সনের পদত্যাগের পর এই শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। কোম্পানিটির ভেতরের এই অস্থিরতা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো নিজেদের বাণিজ্যিক অবস্থান শক্ত করতে এবং শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার দৌড়ে অন্ধের মতো ছুটে চলেছে। কোনো ধরনের কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ‘সুপার-ইন্টেলিজেন্স’ বা অতি-উন্নত বুদ্ধিমত্তার দিকে এই ধাবমান যাত্রাকে গবেষকরা মানবজীবন নিয়ে এক ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ জুয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রযুক্তি খাতের ভেতরের এই বিস্ফোরক তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে, বাণিজ্যিক মুনাফা ও বাজার দখলের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মেতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তির ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল হওয়া সত্ত্বেও কোনো সুনির্দিষ্ট এবং টেকসই নিরাপত্তা রূপরেখা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পদত্যাগকারী গবেষক জ্যাকব কক্সন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, প্রযুক্তি ল্যাবগুলো দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে স্ব-উন্নয়ন বা সেলফ-ইমপ্রুভিং সুপার-ইন্টেলিজেন্স অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিতে পারে। এই প্রযুক্তি অদূর ভবিষ্যতে এমন এক অতি-মানবীয় সিস্টেমে রূপান্তরিত হতে পারে যা যেকোনো ডিজিটাল নেটওয়ার্ক হ্যাক করা থেকে শুরু করে রাতারাতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিতে সক্ষম। এমন পরিস্থিতিতে অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স লিড ইভান হুবিঙ্গার আরও ভয়ংকর তথ্য সামনে এনে জানিয়েছেন যে, আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে সমগ্র মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশেরও বেশি। অথচ এই ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অ্যানথ্রপিক কিংবা ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এই অতি-বুদ্ধিমান সিস্টেমের লক্ষ্য ও আচরণের সামঞ্জস্য বা অ্যালাইনমেন্ট নিশ্চিত করার কোনো পরীক্ষিত সমাধান নেই। গবেষকদের এই সরাসরি জবানবন্দি ও ভেতরের খবরগুলো প্রকাশ করে দেয় যে, খোদ নির্মাতারাও জানেন তাদের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি এক সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, তবুও তারা অন্ধের মতো সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

এই নজিরবিহীন সতর্কবার্তার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো জোরালো বা আশ্বস্ত করার মতো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে। অতীতে টেসলা প্রধান ইলন মাস্কসহ বিশ্বের নামী-দামী গবেষকরা এআই নিয়ে বারবার সতর্ক করলেও বাণিজ্যিক ল্যাবগুলো মুনাফার মোহে সেই সমস্ত হুঁশিয়ারি বরাবরই উপেক্ষা করে এসেছে। ওপেন-সোর্স প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস-এ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অননুমোদিত অনুপ্রবেশ এবং একটি এআই মডেলের নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ প্রমাণ করে যে, এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ভেদ করতে শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী এআই উন্নয়নের এই তীব্র প্রতিযোগিতাকে রোধ করতে বা এর লাগাম টেনে ধরতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর নজরদারি, আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যয়বহুল ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যথায়, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া প্রযুক্তির রোষানলে পড়ে পুরো মানবসভ্যতাকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই লাগামহীন দৌড় কেবল প্রযুক্তি খাতের অভ্যন্তরীণ নীতি নৈতিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং তা বিশ্ববাসীর সার্বিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের ওপর এক বিশাল তলোয়ার ঝুলিয়ে দিচ্ছে। গবেষণা ল্যাবগুলোর ভেতরের এই কোন্দল এবং দায়িত্বশীল বিজ্ঞানীদের পদত্যাগের ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি যেখানে আমাদের নিজস্ব তৈরি অতি-বুদ্ধিমত্তা আমাদেরই ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি সময়মতো আন্তর্জাতিক নীতিমালা প্রণয়ন করে এই অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তিগত লড়াই থামানো না যায়, তবে মানুষের হাতে গড়া এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই মানবজাতির চিরতরে বিলুপ্তির চূড়ান্ত অধ্যায় রচনা করবে। তাই মুনাফা অর্জনের অন্ধ বাণিজ্যিক দৌড় বন্ধ করে এআই নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বমঞ্চে অবিলম্বে কঠোর যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

没有找到评论


News Card Generator