ডেটা ও বাস্তবতা: নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষমতায়ন খাতের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ডেটা ও বাস্তবতা: নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষমতায়ন খাতের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন

রেহানা পারভীন  avatar   
রেহানা পারভীন
ডেটা ও বাস্তবতা: নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষমতায়ন খাতের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন
ডেটা ও বাস্তবতা: নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষমতায়ন খাতের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন
ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (BANBEIS) এর এক তথ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দ...

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (BANBEIS) এর এক তথ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় (TVET) নারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের সনাতন কর্মক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক ও উদ্যোক্তা-বান্ধব পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। এই পরিসংখ্যান কেবল শিক্ষাগত অগ্রগতিই নয়, বরং নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষমতায়ন খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও তুলে ধরে, যেখানে গুণগত দক্ষতা ও বাস্তবমুখী বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উপলব্ধি করা সম্ভব।

উচ্চশিক্ষা খাতে নারীদের এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে কেবল সংখ্যাগত বৃদ্ধি হিসেবে দেখলে চলবে না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) তাদের বিভিন্ন নীতি ও নির্দেশিকায় লিঙ্গ সমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা উচ্চশিক্ষায় নারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। যেমন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ও সহায়তা কার্যক্রম চালু হয়েছে, যা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এবং পরবর্তীতে নিজেদের কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরও তাদের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত কোর্স ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করছে, যা তাদের প্রযুক্তি-নির্ভর দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করছে। এই ধরনের উদ্যোগগুলো নারীর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথ খুলে দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত উদ্যোক্তা হিসেবে তাদের আত্মপ্রকাশে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। তবে, কেবল শিক্ষা গ্রহণই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সেই শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মতো সুযোগ ও সহায়ক পরিবেশ।

নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষমতায়নের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) এবং স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (SEIP)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নারীদের জন্য বিশেষায়িত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচিগুলো শুধুমাত্র প্রচলিত পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন এবং অন্যান্য উচ্চ-চাহিদার কারিগরি ক্ষেত্রেও নারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, SEIP এর আওতায় অসংখ্য নারী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ফ্রিল্যান্সার বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন। NSDA তাদের কর্মপরিকল্পনায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম এবং বাজার সংযোগ স্থাপনের উপর জোর দিচ্ছে, যা তাদের প্রশিক্ষিত দক্ষতাকে ব্যবসায় রূপান্তরে সহায়তা করে। এই ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টাগুলো নারীদের কেবল চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে, এসব কর্মসূচির কার্যকারিতা নিরূপণে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের প্রয়োজন অনস্বীকার্য, যাতে প্রশিক্ষণের মান ও বাজার চাহিদা অনুযায়ী এর প্রাসঙ্গিকতা বজায় থাকে।

খাত সূচক ২০১৮-১৯ সাল ২০২২-২৩ সাল উৎস
উচ্চশিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থী শতাংশ ৩৩.২% ৩৮.৫% UGC ও BANBEIS
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (TVET) নারী শিক্ষার্থী শতাংশ ২৫.৪% ৩১.৭% কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও BANBEIS
দক্ষতা উন্নয়ন SEIP এর আওতায় প্রশিক্ষিত নারী ১,৫০,০০০+ ২,২৫,০০০+ NSDA ও SEIP

উৎস: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC), বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (BANBEIS), কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) এবং স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (SEIP) এর বার্ষিক প্রতিবেদন।

সুপারিশ

  • বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র (Women Entrepreneurship Development Center) প্রতিষ্ঠা বাধ্যতামূলক করবে, যা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) এর কারিকুলাম ও মেন্টরশিপ প্রোগ্রামের সাথে সমন্বিত হবে।
  • কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তি-নির্ভর (যেমন: AI, ডেটা সায়েন্স, সাইবার নিরাপত্তা) কারিগরি প্রশিক্ষণে কোটা বৃদ্ধি করতে হবে এবং স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (SEIP) এর মাধ্যমে তাদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ও স্টার্ট-আপ ফান্ড নিশ্চিত করতে হবে।
  • BANBEIS এবং NSDA যৌথভাবে একটি জাতীয় ডেটাবেস তৈরি করবে, যা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক সাফল্যের হার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে এবং এই ডেটার ভিত্তিতে নীতি পুনর্গঠন ও সহায়ক আইন প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করবে।

✍️ নিবন্ধ লেখক: রেহানা পারভীন

রেহানা পারভীন 'আই নিউজ বিডি'-র একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও বিষয়ভিত্তিক গবেষক। তাঁর বিশেষত্বের জায়গা: নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষমতায়ন। এই নিবন্ধটি তাঁর নিজস্ব গবেষণা ও বিশ্লেষণ থেকে সংকলিত।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator