ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. শহিদুল ইসলাম তার নির্বাচনী প্রচারণায় ‘স্মার্ট, উন্নত ও শিক্ষাবান্ধব তারাকান্দা’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ঢাকুয়া ইউনিয়নের পানিয়াবর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই প্রযুক্তিবিদ ও শিক্ষক দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামের পটভূমিকে পুঁজি করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী শহিদুল ইসলাম ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন অধিকারভিত্তিক ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ময়মনসিংহ অঞ্চলে নেতৃত্ব প্রদানকারী হিসেবে তার ভূমিকা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন তরুণ ও প্রযুক্তিমনস্ক নেতৃত্ব হিসেবে তার এই নির্বাচনী লড়াই স্থানীয় ভোটারদের মাঝে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহার ও ভিশন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম তারাকান্দার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার পরিকল্পনায় উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও মেধাবীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি চালুর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব দূর করতে বিনামূল্যে আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মতে, তারাকান্দার কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার প্রস্তাবিত আধুনিক প্রযুক্তি ও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মানোন্নয়নের পরিকল্পনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় সরকার গঠনের প্রত্যাশাকে আরও বেগবান করেছে। তার দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদানের অভিজ্ঞতা ভোটারদের মধ্যে তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলামের এই নির্বাচনী পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অনেকে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় রাজনৈতিক পক্ষগুলো এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বড় ধরনের দ্বন্দ্বে না জড়ালেও, শহিদুল ইসলামের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং জনসম্পৃক্ততার কৌশল মাঠপর্যায়ে বেশ আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। তার নির্বাচনী কৌশলের অন্যতম দিক হলো প্রতিটি ইউনিয়নে যুব ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করা, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। দায়িত্বশীল মহলের প্রত্যাশা, প্রার্থী যেই হোন না কেন, তারাকান্দার উন্নয়নে টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহারই হবে আগামীর মূল পরীক্ষা।
পরিশেষে, তারাকান্দার উন্নয়ন ও আগামীর স্মার্ট উপজেলা গঠনের যে রূপরেখা ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম প্রদান করেছেন, তা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করতে পারে। তার এই ভিশন বাস্তবায়িত হলে শুধু শিক্ষা বা প্রযুক্তিতেই নয়, বরং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তারাকান্দা একটি মডেল উপজেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে। তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর এই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটুকু কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন অত্র অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাধারা ও জনবান্ধব স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে শহিদুল ইসলামের রাজনৈতিক পরিপক্কতা এবং তার দলের সাংগঠনিক দক্ষতা আগামী দিনে তারাকান্দার নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।