রাজশাহীতে কঠোর নজরদারি উপেক্ষা করে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ও শোডাউন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাজশাহীতে কঠোর নজরদারি উপেক্ষা করে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ও শোডাউন..

Mahady hasan Raj avatar   
Mahady hasan Raj
রাজশাহীতে কঠোর নজরদারি উপেক্ষা করে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ও শোডাউন..
রাজশাহীতে কঠোর নজরদারি উপেক্ষা করে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ও শোডাউন..
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবিতে ঝটিকা মিছিল ও পথসভা করেছে মহানগর যুবলীগ।..

সোমবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর ভদ্রা মোড় এলাকায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে এক ঝটিকা মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর যুবলীগের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ভদ্রা মোড় এলাকায় আয়োজিত পথসভায় বক্তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কঠোর প্রশাসনিক বিধিনিষেধের মধ্যেই এমন কর্মসূচি পালন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মিছিলটি ভদ্রা মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক অতিক্রম করে, যেখানে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবিতে তারা সোচ্চার ছিলেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন। এই ঝটিকা মিছিলটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন মহানগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। মিছিলের পুরো গতিপথ এবং অংশগ্রহণকারীদের কর্মকাণ্ড গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মিছিল ও পথসভা কেন্দ্র করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করে রাজপথে নেতাকর্মীদের এমন উপস্থিতি এবং স্লোগান স্বাভাবিক জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তির সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার মুখে এই ধরনের শোডাউন জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, হঠাৎ মিছিলের কারণে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আয়োজকদের দাবি, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি পালন করেছেন। মহানগর যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে এই মিছিল পরিচালিত হয়। তাদের ভাষ্যমতে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষে রাজপথে তাদের এই উপস্থিতি অপরিহার্য। তবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা বা আইন অমান্য করে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ঘটনাটি সম্পর্কে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মিডিয়া মুখপাত্র এডিসি জামিলুর ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিছিলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আইন অমান্য করে যারা এই কর্মসূচি পালন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভদ্রা মোড়সহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখেছিল এবং মিছিলের প্রতিটি মুহূর্ত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এই মিছিল সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যুবলীগ নেতাদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেছেন, কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এটাকে নিছক কোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে না দেখে বরং বিধিনিষেধের লঙ্ঘন হিসেবেই দেখছে। প্রশাসন বলছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের অযৌক্তিক শোডাউনকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

এই ঘটনার ফলে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও যেভাবে ঝটিকা মিছিল সম্পন্ন হয়েছে, তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বল দিকগুলোকেও স্পষ্ট করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি নগরীর সার্বিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি বা শোডাউনের প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা রাজশাহীর নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। প্রশাসনিক কঠোরতা এবং রাজনৈতিক তৎপরতার এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Nema komentara


News Card Generator