নিউ জার্সির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্পত্তিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই এজেন্টদের অবাধ প্রবেশ ও কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের দায়ের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন জেলা জজ জর্জেট কাস্টনার। শুক্রবার দেওয়া এই রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, রাজ্য সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ ফেডারেল আইনের কোনো লঙ্ঘন নয়। মূলত নিউ জার্সির গভর্নরের জারিকৃত নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, বিচারকের পরোয়ানা ছাড়া আইসিই এজেন্টরা কোনো সরকারি স্থাপনাকে অভিবাসন প্রক্রিয়াকরণের ঘাঁটি বা প্রস্তুতি এলাকা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। ট্রাম্প প্রশাসন এই আদেশকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের পথে একটি 'কষ্টকর বাধা' হিসেবে উল্লেখ করে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল, তবে আদালত সেই যুক্তিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
মামলাটির আইনি লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ফেডারেল সরকারের আধিপত্য ধারা বা সুপ্রিমেসি ক্লজ এবং রাজ্য সরকারের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার। ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ দাবি করেছিল যে, নিউ জার্সির এই নীতি ফেডারেল সরকারের অভিবাসন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং এটি ইচ্ছাকৃতভাবে বৈষম্যমূলক। তবে ভুক্তভোগী বা যারা এই নীতির মাধ্যমে আইসিই-এর কঠোর অভিযান থেকে সুরক্ষা চেয়েছেন, তাদের মতে এটি ছিল স্থানীয় প্রশাসনের নিজস্ব সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ। আদালতের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, কংগ্রেস ফেডারেল অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে রাজ্যগুলোর কাছ থেকে যে সহায়তার আশা করে তা মূলত ঐচ্ছিক, বাধ্যতামূলক নয়। ফলে, নিউ জার্সির মতো কোনো অঙ্গরাজ্য যদি ফেডারেল এজেন্সিকে তাদের স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি না দেয়, তবে তা সংবিধানের কোনো ধারা লঙ্ঘন করে না, বরং এটি দশম সংশোধনীর অধীনে রাজ্যের সুরক্ষামূলক ক্ষমতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আদালতের রায়ে আরও বলা হয়েছে যে, ফেডারেল সরকার বা আইসিই এজেন্টদের ওপর কোনো ধরনের বেআইনি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়নি, বরং রাজ্য তার নিজের সম্পত্তি রক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে মাত্র। বিচারক কাস্টনার তার ৩০ পৃষ্ঠার রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈষম্যের অভিযোগটিও নাকচ করে দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যেহেতু অন্য কোনো সংস্থা বা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, তাই ফেডারেল এজেন্টদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপকে বৈষম্যমূলক বলা যায় না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই রায়কে ফেডারেল সরকারের অতিরিক্ত ক্ষমতার চর্চার বিরুদ্ধে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও ফেডারেল সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিলের সুযোগ খোলা রেখেছে কি না তা নিয়ে আইনজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক রয়ে গেছে।
এই রায়ের প্রভাব সুদূরপ্রসারী, কারণ এটি অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের জন্যও একটি আইনি নজির স্থাপন করল যারা অভিবাসন ইস্যুতে ফেডারেল এজেন্সির সাথে অসহযোগিতামূলক অবস্থান নিতে আগ্রহী। পরিবহন এবং সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর এমন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ভবিষ্যতে ফেডারেল-রাজ্য সম্পর্কের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং সরকারি সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে এর কোনো সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব না পড়লেও, রাজনৈতিকভাবে এটি অভিবাসন বিরোধী কঠোর নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের আইনি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে টিকে থাকবে। বিচারিক এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে নিউ জার্সির সরকারি স্থাপনায় আইসিই এজেন্টদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই যথাযথ বিচারিক পরোয়ানার বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।