ফক্স নিউজ থেকে মারিয়া বার্টিরোমোর বিচ্ছেদ: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার গুঞ্জন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ফক্স নিউজ থেকে মারিয়া বার্টিরোমোর বিচ্ছেদ: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার গুঞ্জন..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
ফক্স নিউজ থেকে মারিয়া বার্টিরোমোর বিচ্ছেদ: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার গুঞ্জন..
ফক্স নিউজ থেকে মারিয়া বার্টিরোমোর বিচ্ছেদ: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার গুঞ্জন..
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১২ বছর পর ফক্স নিউজ থেকে মারিয়া বার্টিরোমোর বিদায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে হোয়াইট হাউসের সম্ভাব্য প্রেস সেক্রেটারি পদে তার যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক স..

ফক্স নিউজের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মারিয়া বার্টিরোমো সম্প্রতি নেটওয়ার্কটি থেকে বিদায় নিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজ আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রস্থানের ঘোষণা দেয়, যার ঠিক পরপরই সংবাদ বিশ্লেষক অলিভার ডার্সি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই বিচ্ছেদ কেবল একটি পেশাদার বিচ্ছেদ নয় বরং এর পেছনে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে বার্টিরোমোর গভীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। ডার্সি এবং ডিলান বায়ার্সের মতো সাংবাদিকদের তথ্যমতে, ২০২০ সালের নির্বাচন সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার না করার জন্য ফক্স কর্তৃপক্ষের দেওয়া গোপন মেমোর স্ক্রিনশট হোয়াইট হাউসে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে বার্টিরোমোর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই মূলত তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বার্টিরোমোর আইনজীবী ব্রায়ান ফ্রিডম্যান এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বার্টিরোমোর বিদায়ের নেপথ্যে থাকা ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি কেবল একজন সাংবাদিক হিসেবে নয়, বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ও ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ফক্স নিউজের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক অবস্থান গ্রহণ করে তিনি ট্রাম্পের বিতর্কিত বয়ানগুলো প্রচারের জন্য মরিয়া ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ফক্স নিউজের নীতিনির্ধারকরা যখন নির্বাচনের গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনৈতিক ইস্যুতে মনোযোগ দিতে চেয়েছেন, তখন বার্টিরোমো উল্টো স্রোতে হেঁটেছেন। ভুক্তভোগী বা সমালোচকদের মতে, তার এই পক্ষপাতমূলক সাংবাদিকতা এবং বিশেষ করে ডমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমস ও স্মার্টম্যাটিকের মতো আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়া নেটওয়ার্কটির ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তার বিদায়ের পথ প্রশস্ত করে।

সংশ্লিষ্ট মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, বার্টিরোমো তার পরবর্তী কর্মক্ষেত্র হিসেবে হোয়াইট হাউসকে বেছে নেবেন কি না। অলিভার ডার্সির মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রেস সেক্রেটারির পদটি বর্তমানে শূন্য থাকায় বার্টিরোমোর সেখানে নিয়োগ পাওয়ার একটি জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের সাথে তার বহু বছরের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক এবং নিউ ইয়র্কের দিনগুলো থেকে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠতা তাকে এই পদের জন্য একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছে। যদিও ফক্স নিউজ বিষয়টিকে একটি মনোরম বিদায় হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে, কিন্তু পর্দার আড়ালে থাকা এই নাটকীয় পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, করপোরেট মিডিয়া এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের সংঘাত কতটা গভীর হতে পারে। তবে প্রশাসনিক কোনো পদে তার নিয়োগের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্প শিবিরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত বার্তা পাওয়া যায়নি।

মারিয়া বার্টিরোমোর এই বিচ্ছেদ আগামী দিনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিকের এভাবে রাজনৈতিক বলয়ে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতার ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিচ্ছে। ফক্স নিউজের মতো একটি প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে এসে যদি তিনি সরাসরি ট্রাম্পের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে তা কেবল তার ক্যারিয়ারের মোড়ই পরিবর্তন করবে না, বরং সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড এবং নিরপেক্ষতার জায়গাটিকে আরও সংকীর্ণ করে তুলবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। শেষ পর্যন্ত বার্টিরোমোর এই নতুন যাত্রা রাজনীতির অঙ্গনে কোনো বড় চমক সৃষ্টি করে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব গণমাধ্যম।

コメントがありません


News Card Generator