নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম সবুজ আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার বিকেলে তাঁকে ঢাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে পথিমধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণ কেবল তাঁর পরিবারের জন্যই নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহকর্মীদের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মফিজুল ইসলামের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। স্বজনদের অভিযোগ, শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানার পর থেকেই তারা তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়তির কাছে হার মানতে হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মফিজুল ইসলাম সবুজের মৃত্যুতে তাঁর এলাকায় ও কর্মস্থলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি পেশাগত জীবনে অত্যন্ত কর্তব্যপরায়ণ ছিলেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সাহসের সাথে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর এই আকস্মিক বিদায় সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত আলাপচারিতায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মরহুমের মরদেহ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এবং জানাজার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাঁদপুর শহরে নেওয়া হয়েছে। পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শনিবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর শহরের রহমতপুর কলোনিতে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার ঠেটালিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করার কথা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে এবং তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের কথা স্মরণ করা হয়েছে।
একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তার আকস্মিক মৃত্যুতে নিরাপত্তা বাহিনীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মফিজুল ইসলামের মতো একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার চলে যাওয়া বাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর মৃত্যুতে যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘসময় ধরে তাঁর সহকর্মী ও স্বজনদের মানসিকভাবে ব্যথিত করবে। যাতায়াত ও চিকিৎসার সংকটময় মুহূর্তে একজন সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যু সরকারি মহলে জনস্বাস্থ্য ও জরুরি সেবার মান নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। তাঁর জানাজায় উপস্থিত হতে যাওয়া সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।