ওমরাহ পালনকালে মক্কায় ইন্তেকাল করলেন জামায়াত নেতার স্ত্রী সাবেরা খাতুন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ওমরাহ পালনকালে মক্কায় ইন্তেকাল করলেন জামায়াত নেতার স্ত্রী সাবেরা খাতুন..

Touhid Sarkar avatar   
Touhid Sarkar
ওমরাহ পালনকালে মক্কায় ইন্তেকাল করলেন জামায়াত নেতার স্ত্রী সাবেরা খাতুন..
ওমরাহ পালনকালে মক্কায় ইন্তেকাল করলেন জামায়াত নেতার স্ত্রী সাবেরা খাতুন..
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র ওমরাহ পালন করতে গিয়ে ফুসফুস সংক্রমণের কারণে মক্কায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শুরা সদস্য নেছার উদ্দিন মাসুদের সহধর্মিণী সাবেরা খাতুন।..

পবিত্র ওমরাহ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবের মক্কায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য এবং যাত্রাবাড়ী-শ্যামপুর থানার সেক্রেটারি নেছার উদ্দিন মাসুদের সহধর্মিণী সাবেরা খাতুন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে মক্কার স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৫০ বছর বয়সী এই নারী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থানকালে তিনি ফুসফুস সংক্রান্ত জটিল সংক্রমণে আক্রান্ত হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, পাঁচ ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। মরহুমার মরদেহ মক্কা নগরীতেই দাফন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর পরিবার এবং আজ জুমার নামাজের পর বায়তুল হারামে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমা সাবেরা খাতুন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মরহুম অধ্যাপক ইউসূফ আলীর পুত্রবধূ ছিলেন, যা তাঁর পারিবারিক পরিচিতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

সাবেরা খাতুনের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি আমৃত্যু দ্বীন কায়েমের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার ও স্বজনরা গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, ওমরাহ পালনের প্রবল ইচ্ছায় তিনি মক্কায় গমন করেছিলেন, কিন্তু সেখানে আকস্মিক অসুস্থতা ও পরবর্তী শারীরিক জটিলতা তাঁর জীবনের সমাপ্তি টেনে দেয়। এই শোকের মুহূর্তে স্বজনরা তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে কেবল পরিবারই নয়, বরং যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বলয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন, সেখানেও এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মন্তব্য করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গী ও পরিবারবর্গ তাঁর এই বিদায়ে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ ও কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করছেন।

মরহুমার ইন্তেকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। শোকবার্তায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, সাবেরা খাতুন দ্বীনের পথে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং আন্দোলনের যে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারা মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেছেন যেন আল্লাহ তাঁর সব নেক আমল কবুল করেন এবং তাঁকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। একইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁরা শোক কাটিয়ে ওঠার মতো ধৈর্য ও সাহস প্রদানের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছেন। রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই শোকবার্তা ও সমবেদনা জ্ঞাপন মরহুমার প্রতি দলের সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাবেরা খাতুনের এই প্রস্থান প্রবাসী ও ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে, কারণ বিদেশের মাটিতে জটিল রোগের চিকিৎসা ও মৃত্যু পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। পবিত্র ভূমিতে মৃত্যু হওয়ায় ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে অনেকেই পরম সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন, যা পরিবারের শোকের মধ্যেও এক ধরনের প্রশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মক্কা নগরীতে দাফন সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে তাঁর শেষ ইচ্ছা পূর্ণ হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাঁর এই বিদায়ে পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় কোনো বিঘ্ন না ঘটলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তাঁর অভাব অনুভূত হবে বহুদিন। শোকের এই আবহ কাটিয়ে উঠতে পরিবারকে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে এবং তাঁর রেখে যাওয়া সন্তানরা যেন তাঁর আদর্শ সমুন্নত রাখতে পারে, সে প্রত্যাশাই এখন সকলের।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator