গণদাবি আদায়ে রাজপথের প্রস্তুতি: সূত্রাপুরে জামায়াতের প্রচার মিছিল ও লংমার্চের ঘোষণা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

গণদাবি আদায়ে রাজপথের প্রস্তুতি: সূত্রাপুরে জামায়াতের প্রচার মিছিল ও লংমার্চের ঘোষণা..

Touhid Sarkar avatar   
Touhid Sarkar
গণদাবি আদায়ে রাজপথের প্রস্তুতি: সূত্রাপুরে জামায়াতের প্রচার মিছিল ও লংমার্চের ঘোষণা..
গণদাবি আদায়ে রাজপথের প্রস্তুতি: সূত্রাপুরে জামায়াতের প্রচার মিছিল ও লংমার্চের ঘোষণা..
ছবি: সংগৃহীত
১১ দলীয় ঐক্যের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সূত্রাপুরে ব্যাপক প্রচার মিছিল ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।..

গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সূত্রাপুর থানার উদ্যোগে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি ও কর্মপরিষদ সদস্য কামরুল আহসান হাসানের নেতৃত্বে সূত্রাপুর এলাকায় এই মিছিলটি পরিচালিত হয়। মিছিলটিতে সূত্রাপুর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব থানার আমীরসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনতা অংশগ্রহণ করেন। মূলত আগামী শনিবার মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে যে লংমার্চ শুরু হতে যাচ্ছে, তার প্রতি জনসমর্থন তৈরি এবং ছয় দফা দাবির যৌক্তিকতা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই প্রচার মিছিলে অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনদুর্ভোগের এই সময়ে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির এমন রাজপথের কর্মসূচি জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মহানগরীর অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছয় দফার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো এখন জাতির প্রধান দাবি। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিগুলো তোলা হলেও সরকারি পর্যায়ে তার কোনো দৃশ্যমান সমাধান মেলেনি। কামরুল আহসান হাসানের বক্তব্যে উঠে আসে যে, দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কুক্ষিগত করে রাখার ফলে সাধারণ মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী জনসাধারণের পক্ষ থেকে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন কর্ণপাত না করায় বাধ্য হয়েই রাজপথের আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দাবি অনুযায়ী, সংসদে গণদাবি আদায়ের সকল আইনি ও গণতান্ত্রিক পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন, সরকার যদি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় জনগণের এই দাবিসমূহ উপেক্ষা করতে থাকে, তবে রাজপথই হবে দাবি আদায়ের একমাত্র স্থান। আগামী শনিবার মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে এই লংমার্চের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে, যার নেতৃত্ব দেবেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পর্যায়ক্রমে রংপুর, খুলনা ও সিলেট অভিমুখে লংমার্চ শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় একটি বিশাল মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মসূচিতে নজরদারি থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

এই লংমার্চ কর্মসূচি কেবল একটি রাজনৈতিক মিছিল নয়, বরং এটি সরকারের ব্যর্থতা ও জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের গণজাগরণের সংকেত হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্রাপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের এই প্রচার মিছিল এবং পরবর্তী কর্মসূচিগুলো প্রমাণ করে যে, আগামী দিনগুলোতে রাজপথের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতায়। যদি সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ছয় দফা দাবি নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে আগামীতে লংমার্চ ও মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে কঠোর আন্দোলনের মুখে পড়তে পারে বর্তমান প্রশাসন, যা দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator