রাঙ্গুনিয়ায় উচ্ছেদ অভিযান: এক একর সরকারি বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করল বন বিভাগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাঙ্গুনিয়ায় উচ্ছেদ অভিযান: এক একর সরকারি বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করল বন বিভাগ..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
রাঙ্গুনিয়ায় উচ্ছেদ অভিযান: এক একর সরকারি বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করল বন বিভাগ..
রাঙ্গুনিয়ায় উচ্ছেদ অভিযান: এক একর সরকারি বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করল বন বিভাগ..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বন বিভাগের বিশেষ অভিযানে প্রায় এক একর সরকারি প্রটেক্টিভ ফরেস্ট বা পিএফ ভূমি অবৈধ স্থাপনা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।..

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইছামতী রেঞ্জের আওতাধীন ঠান্ডাছড়ি মৌজার ২০ নম্বর এলাকায় গত ১ সেপ্টেম্বর বন বিভাগের একটি বিশেষ অভিযানে প্রায় এক একর সরকারি প্রটেক্টিভ ফরেস্ট বা পিএফ ভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি এই বনভূমি জবরদখল করে সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের পাঁয়তারা চালাচ্ছিল। বন বিভাগের নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয় এবং নির্মাণাধীন অবৈধ ঘর ও স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ইছামতী বিট কর্মকর্তা মেহেদী হাসান রনির নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বন বিভাগের পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ সদস্যরাও অংশ নেন। তাৎক্ষণিক এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি মূল্যবান বনসম্পদ রক্ষা পেয়েছে এবং দখলদারদের অবৈধ নির্মাণ কার্যক্রম নস্যাৎ হয়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় সচেতন মহল এবং বন বিভাগের তথ্যমতে, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত কৌশলে সরকারি সংরক্ষিত এই ভূমিতে ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করছিল। এর আগেও বন বিভাগের টহল দল কয়েকবার তাদের বাধা প্রদান করলেও চক্রটি রাতের আঁধারে গোপনে নির্মাণ কাজ চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়দের মতে, বনভূমি দখলের এই প্রবণতা কেবল পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে না, বরং সরকারি সম্পত্তির ওপর অবৈধ আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। ইছামতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমানের নির্দেশে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানে দখলদাররা বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও বনভূমি উদ্ধারের মাধ্যমে দখলদারদের চক্রান্ত সাময়িকভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কঠোর হুশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে। বন বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সরকারি বনভূমি রক্ষায় বর্তমানে নিয়মিত নজরদারি ও টহল ব্যবস্থা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইছামতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান জানান, বনভূমি দখল করে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না এবং এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যারা সরকারি সম্পদ জবরদখলের অপচেষ্টা চালাবে, তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানটি বন অপরাধ দমনে একটি বার্তা হিসেবে কাজ করছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন।

এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে রাঙ্গুনিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং পরিবেশগত সুরক্ষায় একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কেবল উচ্ছেদ নয়, ভবিষ্যতে যেন পুনরায় এই ভূমি দখল না হয়, সে বিষয়ে স্থায়ী নজরদারি ও আইনি কঠোরতা বজায় রাখা জরুরি। সরকারি জমি রক্ষায় বন বিভাগের এই সক্রিয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও, দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়ার এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, যথাযথ সমন্বয় ও প্রশাসনিক তৎপরতা থাকলে বনভূমি জবরদখলের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এবং সরকারি বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগের এই ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

نظری یافت نشد


News Card Generator