সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও… | আই নিউজ বিডি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ: বিচারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস..

Mohammad mojnu sarkar avatar   
Mohammad mojnu sarkar
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ: বিচারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস..
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ: বিচারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস..
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে এক কলেজছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শাহিন শেখের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।..

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। গত ৩১ আগস্ট সোমবার বেলা ১১টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. শাহিন শেখ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও ব্ল্যাকমেইলিং করে আসছিলেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে। ঘটনার সূত্রপাত ও তার পরবর্তী প্রভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে, যা মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যর্থতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত শাহিন শেখ তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ক্যাম্পাসে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী মো. শামীম বিশ্বাস, লাইলী বেগম এবং অভিভাবক মো. শাহজাহান ও তৌহিদুল ইসলাম বাবুসহ স্থানীয়রা জানান, এই ঘটনার আগেও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা অভিযুক্তকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহিন শেখের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়, যেখানে এক শিক্ষার্থী ও এক গৃহবধূর সাথে তার আপত্তিকর আলাপ শোনা গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। যদিও অডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান, তবুও এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। ভুক্তভোগীদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করা কলেজ প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। মানববন্ধনে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং তাকে কলেজ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্ল্যাকমেইলিংমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কঠোর পদক্ষেপের খবর পাওয়া না গেলেও, স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং সামগ্রিক শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তার অভাবকে প্রতিফলিত করছে। ছাত্রনেতাদের এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার স্বাভাবিক গতিপথকে বাধাগ্রস্ত করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফেরানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। একইসাথে শিক্ষার্থীদের ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কলেজ প্রশাসনকে আরও বেশি সজাগ ও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator