নিউইয়র্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা এক অত্যন্ত গোপনীয় ও রহস্যঘেরা ধর্মীয় সম্প্রদায় হলো হাসিদীয় ইহুদি সমাজ (Hasidic Jews)। আধুনিক দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এই সম্প্রদায়ের অন্দরমহলে প্রবেশ করা বাইরের মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব বললেই চলে। সম্প্রতি এই অত্যন্ত সংরক্ষিত সমাজের ভেতরকার জীবনযাত্রা নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন সামনে এসেছে, যা বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
বহু বছর ধরে কঠোর নিয়মকানুন এবং নিজস্ব সংস্কৃতির ঘেরাটোপে আটকে রয়েছে এই হাসিদীয় সম্প্রদায়। আধুনিক প্রযুক্তি, সংবাদমাধ্যম কিংবা বাইরের জগতের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অত্যন্ত সীমিত। তবে সম্প্রতি এই সমাজের ভেতরে টানা ৪৮ ঘণ্টা কাটানোর সুযোগ মিলেছে, যার মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে তাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা অজানা অধ্যায়। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন এবং সমাজপতির নির্দেশ মেনে কীভাবে তারা জীবনযাপন করেন, তার একটি বিরল চিত্র উঠে এসেছে এই অনুসন্ধানে।
এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে আকর্ষক দিক হলো বিট্রিস (Beatrice) নামের এক নারীর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার। যিনি জন্মসূত্রে এই হাসিদীয় সম্প্রদায়ের অংশ ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে সব বাঁধন ছিন্ন করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সাক্ষাৎকারে বিট্রিস তার ফেলে আসা জীবনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা এবং কঠোর নিয়মের বেড়াজালের কথা তুলে ধরেছেন। কীভাবে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয় এবং সেখান থেকে বের হয়ে আসার পথ কতটা কণ্টকাকীর্ণ ছিল, তার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের রক্ষণশীল ও গোপনীয় সম্প্রদায়গুলো আধুনিক মানবাধিকারের প্রশ্নে প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জীবনযাত্রা এবং শিক্ষার অধিকার নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিট্রিসের মতো মানুষের সাহসিকতা এই বন্ধ দরজার পেছনের অন্ধকার জগৎকে বিশ্বের সামনে এনে দিচ্ছে।
এদিকে, এই বিশেষ প্রতিবেদনের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তার জন্যও একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মীরা আশা করছেন, এই ধরনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কেবল মানুষের কৌতূহলই মেটাবে না, বরং গোপনে থাকা মানবধিকার লঙ্ঘন বা সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখবে। আধুনিক আমেরিকার বুকে এমন একটি মধ্যযুগীয় জীবনব্যবস্থা কীভাবে টিকে আছে, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
সোর্স: youtu.be