যশোরে মুমূর্ষু প্রসূতির জীবন রক্ষায় আনসার সদস্যের মানবিক রক্তদান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

যশোরে মুমূর্ষু প্রসূতির জীবন রক্ষায় আনসার সদস্যের মানবিক রক্তদান..

Touhid Sarkar avatar   
Touhid Sarkar
যশোরে মুমূর্ষু প্রসূতির জীবন রক্ষায় আনসার সদস্যের মানবিক রক্তদান..
যশোরে মুমূর্ষু প্রসূতির জীবন রক্ষায় আনসার সদস্যের মানবিক রক্তদান..
ছবি: সংগৃহীত
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গর্ভপাতজনিত জটিলতায় সংকটাপন্ন এক গৃহবধূর জীবন রক্ষায় স্বেচ্ছায় রক্তদান করলেন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম।..

২৮ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার সকালে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক মানবিক ও দৃষ্টান্তমূলক ঘটনার অবতারণা হয়, যেখানে একজন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে প্রাণ বেঁচে যায় এক প্রসূতি মায়ের। সকাল ১০টার দিকে মোছা. খাদিজা খাতুন নামক এক গৃহবধূকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যার চার মাসের গর্ভের সন্তান আকস্মিক শারীরিক জটিলতায় নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গর্ভপাত পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে খাদিজার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে ধাবিত হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন। এই সংকটময় মুহূর্তে রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন হয়ে পড়ে অপরিহার্য, কিন্তু রোগীর স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। এমন একটি নাজুক পরিস্থিতিতে যশোর সদর ইউএনও গার্ডে কর্মরত আনসার সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে এগিয়ে আসেন এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রমকে সচল রাখতে সহায়তা করেন।

ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, রক্ত পাওয়ার অনিশ্চয়তা যখন তাদের দিশেহারা করে তুলেছিল, তখন মো. আরিফুল ইসলামের এগিয়ে আসা ছিল এক পরম আশীর্বাদ। রোগীর স্বামী মো. সুলতান হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান যে, ব্যক্তিগত পরিচয়হীন একজন সরকারি নিরাপত্তা কর্মীর এমন নিঃস্বার্থ সহযোগিতা তাদের পরিবারের জন্য অভাবনীয় ছিল। মূলত হাসপাতালের রক্তদান কেন্দ্র বা পরিচিত মহলে রক্ত সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার পর স্বজনরা যখন অসহায় বোধ করছিলেন, ঠিক তখনই আনসার সদস্যের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত রোগীর জীবন বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। রুটিন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনগণের বিপদে এমন মানবিক ভূমিকা পালন করা কেবল পেশাদারিত্ব নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে যে, জরুরি চিকিৎসা সেবায় রক্তের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার চেয়েও ব্যক্তিগত মানবিক উদ্যোগই জীবন রক্ষায় মূল নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়।

ঘটনাটির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাতেই নিয়োজিত নন, বরং দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক বিপর্যয়ে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। মো. আরিফুল ইসলামের এই উদ্যোগকে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং এটি বাহিনীর সদস্যদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যশোর জেনারেল হাসপাতালের মতো জনাকীর্ণ সরকারি হাসপাতালে রক্তের তীব্র সংকট দূর করতে এবং জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে, সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এমন মানবিক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের সাথে প্রশাসনের এক মেলবন্ধন তৈরি করে, যা জনসেবায় নিয়োজিত প্রতিটি কর্মীর জন্য একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে কাজ করতে পারে।

পরিশেষে, একজন আনসার সদস্যের এই মানবিক প্রচেষ্টা পরিবহন ও চিকিৎসা সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্বশীলতার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমান সময়ে যখন সরকারি সেবা কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ মানুষ প্রায়ই অসহযোগিতার অভিযোগ করেন, তখন আরিফুল ইসলামের মতো কর্মীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক কাজ জনমনে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় এবং সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে আনসার বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণ আরও সুসংগঠিত হয়, সেই প্রত্যাশা এখন সচেতন মহলের। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে কেবল জীবন বাঁচানোই সম্ভব নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীলতার এক উচ্চতর মানদণ্ডও স্থাপন করা সম্ভব হয়।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator