সবজি চাষে ঝুঁকছেন রুহিয়া অঞ্চলের কৃষকেরা। | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সবজি চাষে ঝুঁকছেন রুহিয়া অঞ্চলের কৃষকেরা।

শাহাজাদ ইসলাম avatar   
শাহাজাদ ইসলাম
সবজি চাষে ঝুঁকছেন রুহিয়া অঞ্চলের কৃষকেরা।
সবজি চাষে ঝুঁকছেন রুহিয়া অঞ্চলের কৃষকেরা।
ছবি: সংগৃহীত
ধানসহ অন্যান্য সনাতনী ফসলের অনিয়মিত বাজারমূল্যের অনিশ্চয়তা দূর করতে বিকল্প..

হিসেবে লাভজনক সবজি চাষের দিকে দ্রুত ঝুঁকছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার

কৃষকেরা। স্বল্প সময়, সামান্য পুঁজি, বাজারে ভালো চাহিদা এবং স্থানীয় কৃষি

বিভাগের কার্যকর কারিগরি সহায়তাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।

সরেজমিনে রুহিয়ার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে শোভা

পাচ্ছে পটল, করলা, বেগুন, শিম, টমেটো, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ হরেক রকমের ফসল।

যেসব জমিতে একসময় বছরে কেবল একটি ফসল হতো, সেখানে এখন বছরজুড়েই চলছে

সবজির সমন্বিত আবাদ। ধান বা দানাদার ফসলের তুলনায় সবজি দ্রুত বিক্রি করে নগদ

অর্থ হাতে পাওয়া যায় বলেই এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। আহসাদুল হক বলেন, "আগে ধান

চাষ করে খরচের টাকাই উঠতে চাইত না। তবে গত দুই বছর ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে

সবজি চাষ শুরু করার পর থেকে ভালো লাভের মুখ দেখছি। বিশেষ করে আগাম জাতের সবজি

তুলতে পারলে প্রায় দ্বিগুণ দাম পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম

জাতের সবজি চাষে ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৮ থেকে ১০ লাখ

টাকা বিক্রির আশা করছি।" আহসান হাবিব (খড়িবাড়ি টাওয়ার মার্কেট এলাকা,

রাজাগাঁও ইউনিয়ন) বলেন, "এবার ১০০ শতক জমিতে করলা চাষে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ

হয়েছে। ফলন বেশ ভালো, তাই বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে খরচের কয়েক গুণ লাভ থাকবে বলে

আশা প্রকাশ করছি।" উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ

করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ভোর হতেই স্থানীয় পাইকারি

বাজারগুলো জমে ওঠে। পাইকারেরা সরাসরি মাঠ থেকেই টাটকা সবজি কিনে ট্রাকে করে

বড় শহরগুলোতে পৌঁছে দিচ্ছেন, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে চাষিদের

সরাসরি লাভবান হতে সাহায্য করছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল আলম

জানান, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লি অঞ্চলের ১৫শ থেকে ১৬শ হেক্টর জমিতে সবজির

আবাদ হয়েছে। কম সময়ে বেশি লাভ পাওয়ায় কৃষকেরা দিনদিন এতে উৎসাহিত হচ্ছেন

এবং কৃষি দপ্তর থেকে তাঁদের সব ধরণের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় চাষিদের মতে, রুহিয়া এলাকায় একটি স্থায়ী হিমাগার (কোলেস্টোরেজ)

স্থাপন করা গেলে সবজি পচনের ঝুঁকি কমত। পাশাপাশি সহজ শর্তে কৃষি ঋণের

সুযোগ নিশ্চিত করা হলে এই অঞ্চলে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটবে এবং গ্রামীণ

অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator