নিজস্ব সংবাদদাতা।। সি ফ্রেশ ফিস কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনার কথা বলে প্রবাসী আনোয়ার হোসেন ও রাসেল আহম্মেদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে মোট ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৭ টাকা নেওয়ার পর ব্যবসা পরিচালনা না করে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাবিদ আশরাফ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, নাবিদ আশরাফ মো. আশরাফ উদ্দীনের ছেলে এবং রাজধানীর শান্তিনগর-শাহজাহানপুর এলাকার বাসিন্দা। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর হিসেবে +৮৮০ ১৭ ৮৮২৫ ৫৮৮৭ ও +৮৮০ ১৮ ৭০২০ ৭৯৩৯ নম্বর দুটি উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারে চাকরির সুবাদে নাবিদ আশরাফের সঙ্গে আনোয়ার হোসেনের পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত বছরের জুলাই মাস থেকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে মাছের ব্যবসা করার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৭ টাকা মূলধন নেন নাবিদ। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে অল্প অল্প করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয় করেন তিনি।
পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীরা ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে নাবিদ বারবার এক বছর সময় দেওয়ার কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, এক বছর পর সম্পূর্ণ আয়-ব্যয়ের হিসাব বুঝিয়ে দেবেন এবং একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা হিসেবে বিনিয়োগকারীদের সামনে তা উপস্থাপন করবেন। কিন্তু ব্যবসা শুরুর প্রায় ৭-৮ মাস পর তার আচরণ ও হিসাব-নিকাশে অসঙ্গতি দেখতে পান বিনিয়োগকারীরা। এরপর তারা হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন এবং ব্যবসার হিসাব তাদের প্রতিনিধি নোমানের কাছে বুঝিয়ে দিতে বলেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে নাবিদ ব্যক্তিগতভাবে ৮৪ হাজার ৪৩৬ টাকা খরচ করার কথা স্বীকার করেন এবং এর বিপরীতে কয়েকটি চেক দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রাইম ব্যাংকের পাঁচটি চেক—নম্বর ৮১২৬২০২, ৮১২৬২০৩, ৮১৬২০৫, ৮১৬২০৪ ও ৮১২৬২০৬—প্রদান করেন, যেগুলো ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী বন্ধ ও অকার্যকর ছিল। এছাড়া বাকি হিসাবের পরিমাণ নির্ধারণ না হওয়ায় আরও দুটি ব্ল্যাংক চেক—নম্বর ৮১২৬১৯৯ ও ৮১২৬২০০—দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
এরপর নাবিদ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হঠাৎ কোনো ফোন বা মেসেজের উত্তর দিলেও এক-দুই মিনিট কথা বলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। পরে চাপের মুখে নিজের হাতে আরও একটি লিখিত জবানবন্দি এবং প্রাইম ব্যাংকের ৮১ হাজার ২৮১ টাকার পাঁচটি চেক প্রদান করেন বলে জানান তারা। ওই চেকগুলোর নম্বর হলো—৮১২৬২০১, ৮১২৬২০৯, ৮১২৬২০৮, ৮১৬২০৭ ও ৮১৬২১০।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, আত্মগোপনে যাওয়ার আগে নাবিদ ব্যবসার অর্থ গ্রহণ রেজিস্টার, ব্যবসায়িক হিসাব সংরক্ষণ রেজিস্টারসহ অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিসপত্র নিয়ে যান। পরবর্তীতে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, মেহেদী হাসান হিমন, বাহা উদ্দিন ও নাঈম, চট্টগ্রামসহ আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও পার্টনারশিপ ব্যবসার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা।
এদিকে রেস্টুরেন্ট মালিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সি ফ্রেশ ফিস কোম্পানির ব্যবসার নামে নাবিদ আশরাফের সঙ্গে কেউ আর্থিক লেনদেন করলে তার দায়ভার সি ফ্রেশ কর্তৃপক্ষ বহন করবে না। একই সঙ্গে অন্য কোনো ব্যবসার প্রলোভনে পড়ে যাতে কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, কেউ যদি নাবিদ আশরাফকে চিনে থাকেন অথবা তার অবস্থান কিংবা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানেন, তাহলে তা ভুক্তভোগীদের জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। তাকে খুঁজে পেতে বা শনাক্ত করতে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারলে উপযুক্ত সম্মানী দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগে উল্লেখিত যোগাযোগ নম্বর: +৮৮০ ১৭ ৮৮২৫ ৫৮৮৭, +৮৮০ ১৮ ৭০২০ ৭৯৩৯। তবে নাবিদ আশরাফের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
১০ লাখ টাকা নিয়ে আত্মগোপনে নাবিদ, প্রতারণার অভিযোগ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও
১০ লাখ টাকা নিয়ে আত্মগোপনে নাবিদ, প্রতারণার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি