রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলন: সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার আহ্বান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলন: সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার আহ্বান..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলন: সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার আহ্বান..
রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলন: সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার আহ্বান..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ও বেতাগি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মীদের নৈতিক মানোন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।..

গত শুক্রবার ২১ আগস্ট চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়ন জামায়াতের কার্যালয়ে স্থানীয় দুটি ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এক বিশেষ কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পোমরা ও বেতাগি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার মিডিয়া বিভাগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। পোমরা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আমজাদ হোসেন ফরহাদের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। মূলত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলের আদর্শিক ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে দারসুল কোরআন পেশ করেন পোমরা জামায়াতের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দীন, যা উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা সঞ্চারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।

সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা কর্মীদের দক্ষতা, সততা এবং দায়িত্বশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বেতাগি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি সৈয়দ সাহেদুল আলম এবং অধ্যাপক এস এম গোফরান তাদের বক্তব্যে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কর্মীদের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি কর্মীকে কেবল দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী হলেই চলবে না, বরং ব্যক্তিগত জীবনে সততা ও কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের প্রমাণ রাখতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক যুগে তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়। বক্তাদের মতে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সময়ের প্রধান কাজ। স্থানীয় কর্মীদের অভিযোগ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে পারলে সংগঠনের প্রভাব আরও সুসংহত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের জীবন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এই ধরনের কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের কাঠামো শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে এই সমাবেশ নিয়ে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, জামায়াতের অভ্যন্তরীণ এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে রাঙ্গুনিয়া জামায়াতে ইসলামীর রোকন মাওলানা আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি টানা হয়। মূলত কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা এবং দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তসমূহ মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।

এই কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ও বেতাগি এলাকায় জামায়াতে ইসলামী নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান পুনরায় জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের কার্যক্রম স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আদর্শিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার ফলে আগামী দিনগুলোতে রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক মাঠের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়। সংগঠনের এই ধারাবাহিক তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটুকু প্রভাব ফেলে এবং স্থানীয় পর্যায়ে তারা কতটা জনসমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে রাঙ্গুনিয়ায় দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।

Geen reacties gevonden


News Card Generator