গত শতাব্দীর শেষভাগে কুর্দি বিদ্রোহীদের দমনে আকাশ থেকে নজরদারির জন্য একটি ড্রোনের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল তুরস্কের সামরিক বাহিনীতে। আধুনিক এই প্রযুক্তির সাহায্যে নিজ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল আঙ্কারা। কিন্তু সমস্যা বাঁধল অন্য জায়গায়। খোদ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মিত্র হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো তুরস্ককে এই সামরিক প্রযুক্তি দিতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানায়। বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর এই অবমূল্যায়ন ও অপমানই মূলত বদলে দেয় তুরস্কের ভাগ্য।
পশ্চিমা সহায়তার ওপর নির্ভরতা বাদ দিয়ে আঙ্কারা তখনই নিজ দেশের ভেতরেই ড্রোন উৎপাদনের এক যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়। গবেষক, প্রকৌশলী এবং উদীয়মান তরুণ বিজ্ঞানীদের নিয়ে শুরু হয় এক রুদ্ধদ্বার সংগ্রাম। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রযুক্তির অভাব সত্ত্বেও তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাতারাতি কাজ শুরু করে। বৈদেশিক শক্তির মুখাপেক্ষী না থেকে নিজেদের মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে নজরদারি ড্রোন তৈরির এই অদম্য জেদই পরবর্তীতে তুরস্কের ড্রোন শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।
ধীরে ধীরে এই স্থানীয় উদ্যোগগুলো এক বিশাল শিল্পে রূপ নিতে শুরু করে। বিশেষ করে সেলজুক বাইরাকতারের মতো তরুণ প্রকৌশলীদের হাত ধরে জন্ম নেয় বিশ্বখ্যাত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান 'বাইকার্মা'। মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে তারা এমন সব অত্যাধুনিক ড্রোন তৈরি করতে শুরু করে, যা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে পশ্চিমা প্রযুক্তির চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। নজরদারির গণ্ডি পেরিয়ে এসব ড্রোন পরবর্তীতে হামলা চালানোর সক্ষমতাও অর্জন করে, যা পুরো বিশ্বকে চমকে দেয়।
আজকের দিনে তুরস্ক কেবল নিজস্ব চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ড্রোন রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। নাগোরনো-কারাবাখ, সিরিয়া, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে তুর্কি ড্রোনগুলোর কার্যকারিতা বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। একসময়ে যেই তুরস্ককে ড্রোন বিক্রয় করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল পশ্চিমা দেশগুলো, আজ তারাই তুরস্কের তৈরি ড্রোনের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। অপমান আর বঞ্চনার জবাব আঙ্কারা দিয়েছে নিজেদের মেধা ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমেই।
সোর্স: www.youtube.com