অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পিনাকী ভট্টাচার্য সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত কিছু মন্তব্য করেছেন। তার এই ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ভিডিওর মূল আলোচনায় পিনাকী ভট্টাচার্য দাবি করেছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার জন্য একটি সুদূরপ্রসারী গোপন মিশন চলছে। আর এই মিশনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাথে আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন, যাদেরকে তিনি ভারতের প্রতি অনুগত বলে অভিহিত করেছেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো অকাট্য বা নিরপেক্ষ সূত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি, যা ভিডিওটির বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক নেতৃত্বকে জড়িয়ে এ ধরনের মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা মাত্র। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছে, তখন এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণার পেছনে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সেনাপ্রধান বা সামরিক বাহিনীকে নিয়ে এ ধরনের অনুমাননির্ভর ও একপাক্ষিক মন্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভিডিওর ভিউ বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক মেরুকরণকে তীব্রতর করতেই এই ধরনের চটকদার শিরোনাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মত দেন মিডিয়া বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের অপপ্রচার ও গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সোর্স: www.youtube.com