১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সাথে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের এক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক ও ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা। সভায় বহুল প্রতীক্ষিত সঞ্জীবন প্রকল্পের প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা অনুমোদনের বিষয়ে গভর্নর ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, যা আনসার সদস্যদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে বড় ধরনের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই আশ্বাস বাহিনীর সদস্যদের জন্য আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবার নতুন পথ প্রশস্ত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে দক্ষ জনবলের অভাব এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ব্যাংকিং কার্যক্রমকে মন্থর করে রেখেছিল। মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের অভিযোগ ছিল, আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা না থাকায় তারা বেতন-ভাতা গ্রহণ ও ফান্ড ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সভায় কোর ব্যাংকিং সিস্টেম বা সিবিএস বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএসসি-এর মাধ্যমে ২০৫টি পদে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি সিবিএস বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার গতিশীলতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল লেনদেনের জটিলতা নিরসন করা, যা এই আধুনিকায়নের মাধ্যমে সুরাহা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল জনবল নিয়োগ নয়, বরং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে জাতীয় পেমেন্ট ও ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হবে। এর ফলে ব্যাংকটি এখন থেকে বিএসিএইচ, এনপিএসবি এবং বিইএফটিএন-এর মতো আধুনিক আন্তঃব্যাংক লেনদেন ব্যবস্থায় সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. কবীর আহমেদ ও মো. সারওয়ার হোসেনের উপস্থিতিতে হওয়া এই সভায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় কারিগরি দিকনির্দেশনা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে চলমান এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রযুক্তিগত রূপান্তর সম্পন্ন হয়। প্রশাসনের এই উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতিগত সহায়তা আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রযুক্তিগত রূপান্তরে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। ডিজিটাল পেমেন্ট ও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মতো আধুনিক সেবাগুলো সাধারণ সদস্যদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারলে তা বাহিনীর সদস্যদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় প্রভাব ফেলবে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নের এই অঙ্গীকার যদি নির্ধারিত সময়ে পূর্ণতা পায়, তবে এটি দেশের আর্থিক খাতের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে থাকবে। সামগ্রিকভাবে, এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া কেবল একটি ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল অর্থনীতির সুফল পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর মডেল হিসেবেও কাজ করবে।