প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪: সোনার স্বপ্ন বনাম অ্যাথলেটিক্সের নতুন বিশ্বরেকর্ড প্রবণতা | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪: সোনার স্বপ্ন বনাম অ্যাথলেটিক্সের নতুন বিশ্বরেকর্ড প্রবণতা

রায়হান রশীদ  avatar   
রায়হান রশীদ
প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪: সোনার স্বপ্ন বনাম অ্যাথলেটিক্সের নতুন বিশ্বরেকর্ড প্রবণতা
প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪: সোনার স্বপ্ন বনাম অ্যাথলেটিক্সের নতুন বিশ্বরেকর্ড প্রবণতা
ছবি: সংগৃহীত
ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দশকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের বিভিন্ন ইভেন্টে বিশ্বরেকর্ড ভাঙার হার তার পূর্ববর্তী দশকের তুলনায় প্...

ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দশকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের বিভিন্ন ইভেন্টে বিশ্বরেকর্ড ভাঙার হার তার পূর্ববর্তী দশকের তুলনায় প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকের প্রাক্কালে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে প্রতিটি দেশই তাদের 'সোনার স্বপ্ন' পূরণে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে, গতি, শক্তি ও সহনশীলতার প্রতিটি সীমা অতিক্রম করার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা অ্যাথলেটিক্সকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, যা পূর্ববর্তী অলিম্পিক আসরগুলিতে খুব কমই দেখা গেছে।

এই নতুন বিশ্বরেকর্ড প্রবণতার পেছনে রয়েছে ক্রীড়া বিজ্ঞান, বায়োমেকানিক্স এবং পুষ্টি বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি। উদাহরণস্বরূপ, ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স এবং বিভিন্ন জাতীয় অলিম্পিক কমিটিগুলি এখন অত্যাধুনিক ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্সের প্রতিটি সূক্ষ্ম দিক বিশ্লেষণ করছে। উচ্চ-পারফরম্যান্স ট্রেনিং সেন্টারগুলিতে অ্যাথলেটদের জন্য কাস্টমাইজড ট্রেনিং রেজিম, রিকভারি প্রোটোকল এবং মেন্টাল কন্ডিশনিং প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছাতে সহায়তা করছে। এছাড়া, জুতার প্রযুক্তি (যেমন Nike-এর ভাপারফ্লাই সিরিজ) এবং ট্র্যাকের পৃষ্ঠের উন্নত উপাদানগুলিও অ্যাথলেটদের গতি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে, যা প্রায়শই নতুন রেকর্ড স্থাপনের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণের সমন্বয় অ্যাথলেটদের জন্য নতুন মাইলফলক ছুঁয়ে দেওয়াকে আরও সহজ করে তুলছে।

প্যারিস ২০২৪-এ 'সোনার স্বপ্ন' পূরণের জন্য দেশগুলি যে পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, তা পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং গ্রেট ব্রিটেনের মতো শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া শক্তিগুলি তাদের অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে প্রতিভা অন্বেষণ, উচ্চ-প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য। এই দেশগুলির সরকার, যেমন ইউএস অলিম্পিক কমিটি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং এডিবি-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সাথে অংশীদারিত্বে ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের ক্রীড়া বাজেট বৃদ্ধি করেছে, যদিও তা উন্নত দেশগুলির তুলনায় নগণ্য। তবে, এই বিনিয়োগের পরিমাণ এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়েছে। দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো, যেমন উন্নত ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড সুবিধা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম, এখনও বিশ্বমানের তুলনায় অনেক পিছিয়ে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য এই বিশ্বরেকর্ড প্রবণতা একাধারে সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ উভয়ই নিয়ে এসেছে। একদিকে, আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সহায়তার মাধ্যমে স্থানীয় প্রতিভাদের বিশ্ব মঞ্চে তুলে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং উন্নত পরিকাঠামোর অভাবে এই দেশগুলি প্রায়শই পিছিয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব ব্যাংক এবং এডিবি-এর সহযোগিতায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে শক্তিশালী করে যদি তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ এবং তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ কর্মসূচী গ্রহণ করে, তবেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার একটি সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। উন্নত দেশগুলি তাদের অ্যাথলেটদের জন্য যে পরিমাণ রিসোর্স এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে, তা উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য একটি আদর্শ মডেল হতে পারে, যদিও তা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

দেশ ২০২০ অলিম্পিকে অ্যাথলেটিক্সে পদক সংখ্যা (মোট) ২০২৩ সালের অ্যাথলেটিক্স বাজেটে (আনুমানিক) বিনিয়োগ (মিলিয়ন USD) বিশ্বরেকর্ড ভাঙ্গার হার (২০১০-২০২০ বনাম ২০০০-২০১০)
যুক্তরাষ্ট্র ২৬ ৪০০ +৩২%
চীন ১০ ২৫০ +২৮%
গ্রেট ব্রিটেন ৮ ১৮০ +২৫%
জামাইকা ৯ ৭০ +৩৬%
বাংলাদেশ ০ ১০ +৫% (ক্ষেত্রবিশেষে)

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স রিপোর্ট ২০২৪, ইউএস অলিম্পিক কমিটি, বাংলাদেশ সরকার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ক্রীড়া উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্প।

সুপারিশ

  • বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং এডিবি-এর সাথে অংশীদারিত্বে একটি 'জাতীয় ক্রীড়া প্রতিভা উন্নয়ন তহবিল' প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা শুধুমাত্র অলিম্পিক ও আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্সের জন্য উচ্চ-পারফরম্যান্স প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে।
  • জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি ৫ বছরে অন্তত একটি আধুনিক 'ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স স্ট্যান্ডার্ড ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড কমপ্লেক্স' নির্মাণ করতে হবে, যেখানে বায়োমেকানিক্স ল্যাব ও ক্রীড়া বিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণা সুবিধা থাকবে।
  • বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (BOA) ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের সাথে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে অন্তত ১০ জন শীর্ষস্থানীয় বিদেশী কোচ ও ক্রীড়া বিজ্ঞানী নিয়োগ করতে হবে, যাদের প্রধান কাজ হবে পরবর্তী ১০ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট 'অ্যাথলেটিক্স ডেভেলপমেন্ট রোডম্যাপ' তৈরি ও বাস্তবায়ন করা।

✍️ নিবন্ধ লেখক: রায়হান রশীদ

রায়হান রশীদ 'আই নিউজ বিডি'-র একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও বিষয়ভিত্তিক গবেষক। তাঁর বিশেষত্বের জায়গা: অলিম্পিক ও আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স। এই নিবন্ধটি তাঁর নিজস্ব গবেষণা ও বিশ্লেষণ থেকে সংকলিত।

Walang nakitang komento


News Card Generator