দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল: বহিষ্কারের পর সরফভাটা যুবদল নেতা শাহাদাতের পাল্টা হুঙ্কার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল: বহিষ্কারের পর সরফভাটা যুবদল নেতা শাহাদাতের পাল্টা হুঙ্কার..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল: বহিষ্কারের পর সরফভাটা যুবদল নেতা শাহাদাতের পাল্টা হুঙ্কার..
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল: বহিষ্কারের পর সরফভাটা যুবদল নেতা শাহাদাতের পাল্টা হুঙ্কার..
ছবি: সংগৃহীত
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মোজাফ্ফর হোসেন শাহাদাত বহিষ্কারাদেশকে অবৈধ দাবি করে দলের ভেতরে থাকা ‘আওয়ামী প্রেতাত্মা’দের অপসারণের দাবি তুলেছেন।..

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাফ্ফর হোসেন শাহাদাতকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২১ জুলাই স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদল। জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম ও সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরীর যৌথ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শাহাদাত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আরটিভিতে প্রচারিত একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা দলীয় আদর্শের চরম বিরোধী। এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে এবং জেলা পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৃণমূল যুবদলে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মূলত দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জেলা কমিটি দাবি করলেও, বহিষ্কারের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া পুরো বিষয়টি ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

বহিষ্কারাদেশের প্রতিক্রিয়ায় মোজাফ্ফর হোসেন শাহাদাত সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তার ভাষ্যমতে, এটি কোনো দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিচার নয়, বরং ব্যক্তিগত শত্রুতার ফসল। শাহাদাতের দাবি, তার পরিবারের সাথে এক সাংবাদিকের বসতভিটা ও রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলমান রয়েছে এবং সেই বিরোধের জের ধরেই তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। তিনি এসব প্রতিবেদনকে হলুদ সাংবাদিকতার নামান্তর হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জেলা যুবদলের কিছু নেতা স্থানীয় পর্যায়ের একটি কুচক্রী মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। শাহাদাতের অভিযোগ, যারা বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ভোট প্রদান থেকে বিরত ছিলেন, তারাই বর্তমানে জেলা যুবদলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে তার মতো নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের হেনস্তা করছেন। তার মতে, যারা দলের দুর্দিনে নিষ্ক্রিয় ছিল, তারাই আজ বিচারকের ভূমিকা পালন করছে যা সংগঠনের জন্য আত্মঘাতী।

এদিকে এই বহিষ্কারাদেশ এবং শাহাদাতের পাল্টা অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় যুবদলের অন্দরমহলে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কথা বলা হলেও, অভিযুক্ত শাহাদাত বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, যুবদলের নামধারী কিছু দুর্বৃত্ত ও অনুপ্রবেশকারী বর্তমানে দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে, যারা মূলত আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয়। তিনি অবিলম্বে এসব ‘আওয়ামী প্রেতাত্মা’দের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। শাহাদাতের এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে একদিকে জেলা কমিটির সিদ্ধান্তকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে একে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন তৃণমূলের কর্মীরা।

রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে এই বহিষ্কার ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনাটি দলের সাংগঠনিক কাঠামোর দুর্বলতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। একদিকে শৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের সংস্কৃতি, অন্যদিকে বহিষ্কৃতদের পক্ষ থেকে দলের ভেতরে অনুপ্রবেশকারীর অভিযোগ তোলা—এই দ্বিমুখী সংকট আগামী দিনে রাঙ্গুনিয়া যুবদলের কার্যক্রমকে কতটা বাধাগ্রস্ত করবে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয়ভাবে যথাযথ তদন্ত ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে দলের তৃণমূল পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে। সাধারণ কর্মীরা মনে করছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত না হলে দলীয় শৃঙ্খলা কেবল খাতমেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালেই থেকে যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator