সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ভিপি আইনুল হকের গাড়িবহরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর ব্যবহৃত গাড়িটি মারাত্মক ভাঙচুর করা হয়।
জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে সংসদ সদস্যের ওপর হামলা চালায় এবং তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা সহযোগী ফয়সল বিশ্বাসের ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি লাইভে যুক্ত হয়ে ভিপি আইনুল হক বলেন, "দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে বের হয়ে আমরা হামলার শিকার হয়েছি। শত্রুপক্ষ হত্যার উদ্দেশ্যে এই আক্রমণ চালিয়েছে।" একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যও বর্তমানে নিরাপদ নন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় ফয়সল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ইন্ধনে বিরোধী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছে।
সংসদ সদস্যের ওপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।
এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, রাজপথের রাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন জনপ্রতিনিধির ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, "বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের কারণে নিজেরা নিজেদের গাড়ি ভাঙচুর করে অন্য দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা এ ধরনের নোংরা রাজনীতির তীব্র নিন্দা জানাই।"
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সার্বিক বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান জানান, বর্তমানে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।