চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মডেল মসজিদে গত কয়েকদিন আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরাশি তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, আপোষহীন নেতৃত্ব এবং দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার অবদানের ওপর আলোকপাত করা হয়। এস এ মুরাদ চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো বিনির্মাণে বেগম জিয়ার সংগ্রাম ছিল অবিস্মরণীয়। তিনি আমৃত্যু নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন, যা আজকের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের জন্য আদর্শিক প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। এই দোয়া মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল একজন ত্যাগী নেত্রীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নৈতিক ও মানবিক রাজনীতির চর্চা পুনরুজ্জীবিত করা। অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভুক্তভোগী ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে রাজনীতির মূলধারা থেকে মানবিকতা ও সততা হারিয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। এস এ মুরাদ চৌধুরী তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি, যার ফলে তিনি ‘আপোষহীন দেশনেত্রী’ উপাধি অর্জন করেছেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ক্ষমতার মোহে নয়, বরং দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করাই রাজনীতির প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। সভায় উপস্থিত যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অঙ্গীকার করেন যে, তারা দলীয় চেয়ারপারসনের দেখানো পথে অটল থেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবেন। রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও কলেজ শাখা থেকে আসা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে তাদের রাজনৈতিক সংহতি প্রকাশ করেন এবং দেশব্যাপী মানবিক রাজনীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, আদর্শিক রাজনীতির চর্চা না থাকলে দলীয় ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই তৃণমূল পর্যায় থেকে এই আদর্শিক চর্চা শুরু করা জরুরি।
দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবদুল গফুর, সুজন, সেকান্দর, আবু সাঈদ, হারুনসহ রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যুবদলের শীর্ষ নেতারা। এছাড়া বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বক্তারা দাবি করেন যে, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে খালেদা জিয়ার নীতি ও আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। তারা বলেন, কেবল দোয়া মাহফিল বা আলোচনা সভাই নয়, বরং রাজপথে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়েও তাদের এই আদর্শিক অবস্থান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর যে মানবিক নির্দেশনা মুরাদ চৌধুরী দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে স্থানীয় ইউনিটগুলো এখন থেকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিশেষে, এই দোয়া মাহফিল কেবল একটি জন্মদিন উদযাপন নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাঙ্গুনিয়ার মতো জনপদে এমন বড় আয়োজনের মাধ্যমে যুবদলের এই সক্রিয়তা প্রমাণ করে যে, দলের তৃণমূল পর্যায়ে নতুন করে আদর্শিক পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে যখন রাজনৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন খালেদা জিয়ার মতো একজন নেত্রীর আদর্শকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে আসা দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক ও মানবিক পরিবেশকে বেগবান করবে। তৃণমূলের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা আগামী দিনে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।