বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিই কাল হলো সুমনের: চাকরি… | আই নিউজ বিডি

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিই কাল হলো সুমনের: চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে তোলপাড়..

Mohammad mojnu sarkar avatar   
Mohammad mojnu sarkar
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিই কাল হলো সুমনের: চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে তোলপাড়..
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিই কাল হলো সুমনের: চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে তোলপাড়..
ছবি: সংগৃহীত
দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকটের মুহূর্তে গ্রাহকদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় ‘বেলা শেষে বিদ্যুৎ প্রতিদিনের’ পেজ অ্যাডমিন সুমন হোসেনকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও পুনর্বহালের দাবি উঠেছে।..

দেশের চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে সাধারণ গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন তথ্যসেবা প্রদানের অপরাধে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মী ও ‘বেলা শেষে বিদ্যুৎ প্রতিদিনের’ ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন সুমন হোসেনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে যখন সাধারণ মানুষ তথ্যের অভাবে চরম ভোগান্তিতে ছিল, তখন সুমন হোসেন তার নিজস্ব উদ্যোগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তিনি তার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে বিটিওর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও লোডশেডিংয়ের সময়সূচি সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য ও তথ্য প্রকাশের অভিযোগ এনে তাকে কর্মচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যুৎ গ্রাহক ও সচেতন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাটি মূলত একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্যের স্বচ্ছতা বনাম অভ্যন্তরীণ কঠোর শৃঙ্খলার সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে একজন জনবান্ধব কর্মীকে তার দায়িত্ববোধের কারণেই চরম মূল্য দিতে হলো।

ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সুমনের অনুসারীদের অভিযোগ, সুমন হোসেন কখনোই কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াননি, বরং তার ভিডিওগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ, সম্ভাব্য সময়সীমা এবং গ্রাহকদের করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকত। বর্তমানে ফেসবুক পেজটিতে ৫ লক্ষাধিক ফলোয়ার রয়েছে, যারা নিয়মিতভাবে সুমনের তথ্যের ওপর নির্ভর করতেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, যখন বিদ্যুৎ অফিস থেকে সরাসরি কোনো আপডেট পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন সুমনই ছিলেন একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস। গ্রাহকদের একাংশের মতে, একজন সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে তিনি যা করেছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে, কারণ তিনি কোনো প্রকার মনিটাইজেশন বা আর্থিক সুবিধা ছাড়াই জনস্বার্থে তথ্য পৌঁছে দিয়েছেন। এই চাকরিচ্যুতির ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকরা একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হারিয়েছেন, অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানবিক দায়বদ্ধতা প্রদর্শনের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে সুমনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো না হলেও, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অজুহাতে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সুমনের ঘনিষ্ঠজন ও সমর্থকদের মতে, তিনি দায়িত্ব পালনকালে কখনোই অফিসের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেননি, বরং গ্রাহকদের আস্থাহীনতা দূর করতেই কাজ করেছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় যখন ব্যাপক ঘাটতি ছিল, তখন গ্রাহকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা এবং তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়াকে কর্তৃপক্ষ কেন নেতিবাচকভাবে দেখল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও সুমনের শুভানুধ্যায়ীরা এখন বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, মানবিক ও বাস্তব দিক বিবেচনা করে এবং জনস্বার্থে করা কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সুমনের চাকরি পুনর্বহাল করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কর্মীরাও জনসেবামূলক কাজে উৎসাহিত হন।

সুমন হোসেনের এই চাকরিচ্যুতির ঘটনাটি বিদ্যুৎ খাতের স্বচ্ছতা ও গ্রাহক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যখন গ্রাহকসেবার মান উন্নত করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তখন একজন কর্মীর নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে তোলা এই প্ল্যাটফর্মকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে ধ্বংস করা হলো। এটি কেবল একজন কর্মীর ক্যারিয়ারের ওপর প্রভাব ফেলছে না, বরং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ অফিস সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মীদের সৃজনশীলতা ও জনবান্ধব মানসিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকেই দীর্ঘায়িত করবে। গ্রাহকবান্ধব এই কর্মীকে পুনর্বহাল না করা হলে সরকারি সেবার প্রতি জনগণের আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Walang nakitang komento


News Card Generator