কালাইয়ে কিডনি বেচাকেনা চক্রের হোতা সাত্তার গ্রেপ্তার | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কালাইয়ে কিডনি বেচাকেনা চক্রের হোতা সাত্তার গ্রেপ্তার

Md. Sajibul Islam Pavel avatar   
Md. Sajibul Islam Pavel
কালাইয়ে কিডনি বেচাকেনা চক্রের হোতা সাত্তার গ্রেপ্তার
কালাইয়ে কিডনি বেচাকেনা চক্রের হোতা সাত্তার গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
****

কালাইয়ে কিডনি বেচাকেনা চক্রের হোতা সাত্তার গ্রেপ্তার

সজিবুল ইসলাম পাভেল, কালাই(জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের কালাইয়ে কিডনি কেনাবেচা চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তার(৫৪)কে গ্রেপ্তার করেছে কালাই থানা পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বগুড়া সদর থানার পৌর পার্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় কালাই থানা পুলিশ গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তারকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন।

কিডনি কেনাবেচা সংক্রান্ত মামলায় তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তার কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার খলিফার ছেলে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার খুকশিয়া গ্রামের আব্দুল কাফির ছেলে মন্টু মিয়া গত ১৩ জুন জয়পুরহাটের আমলি ৫ নম্বর আদালতে কিডনি কেনাবেচার অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে কালাই থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

মামলার এজাহারে সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটে থাকা মন্টু মিয়াকে কিডনি বিক্রির বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয় এবং পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম দিকে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর নেপালে নিয়ে গিয়ে Marie City Hospital এ ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়। কয়েকদিন হাসপাতালে রাখার পর তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে আসামিরা টাকা না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করেন৷

কালাই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে কিডনি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

স্থানীয়ভাবে কিডনি কেনাবেচার নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠা এলাকাগুলোর মধ্যে মাত্রাই ইউনিয়নের ভেরেন্ডি, উলিপুর, সাতার, কুসুমসাড়া, অনিহার, ভাউজাপাতার, শিবসমুদ্র, পাইকশ্বর ও ইন্দাহার; উদয়পুর ইউনিয়নের বহুতি, মোহাইল, থল, বাগইল, মাস্তর, জয়পুর বহুতি, নওয়ানা বহুতি, দুর্গাপুর, উত্তর তেলিহার, ভুষা, কাশিপুর, বিনইল ও পূর্বকৃষ্টপুর এবং আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের রাঘবপুর, বোড়াই, হারুঞ্জা, নওপাড়া ও বালাইট গ্রামের নাম উঠে এসেছে।

মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯-এর ৯ ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। একই আইনের ১০(১) ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি, ক্রয় বা এ কাজে সহায়তার জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে কিডনি সংক্রান্ত মামলাটি গ্রহণের পর এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে বিশেষ অভিযানে বগুড়া সদর থানা এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দালাল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator